শিনজো আবের হত্যার জন্য তার পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ঘাতকের

Spread the love

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের হত্যায় প্রথমবারের মতো তার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ঘাতক তেতসুয়া ইয়ামাগামি। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) আদালতে শুনানিকালে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।

প্রতিবেদন মতে, তেতসুয়া বলেছেন, আবের বিধবা স্ত্রী আকিয়ে আবের কাছে ‘গভীরভাবে দুঃখ’ প্রকাশ করছেন। ইয়ামাগামি আগেই হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

২০২২ সালের ৮ জুলাই পশ্চিম জাপানের নারা শহরে নির্বাচনী প্রচারণাকালে হাতে বানানো একটি বন্দুক দিয়ে আবেকে গুলি করেন তেতসুয়া। তবে গুলি চালানোর পর ঘটনাস্হল থেকে পালানোর কোনো চেষ্টাই করেননি তিনি। তাকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হয়।

হাসপাতালে নেয়ার পর সেদিনই মারা যান আবে। তার মৃত্যু বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। আবে জাপানের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী। কঠোর পররাষ্ট্রনীতি ও ‘আবেনোমিক্স’ নামে পরিচিত অর্থনৈতিক কৌশলের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

আদালতে ইয়ামাগামি বলেন, ‘আমি গত সাড়ে তিন বছর তাদের (আবের পরিবার) কষ্ট দিয়েছি…। আমার কোন অজুহাত নেই।’স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইয়ামাগামি তদন্তকারীদের আবেকে হত্যার কারণ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি আবের ওপর আক্রমণ করেছিলেন, কারণ তিনি (আবে) ইউনিফিকেশন চার্চের পক্ষে প্রচারণা চালাতেন। তেতসুয়ার অভিযোগ, ওই চার্চ তার মা ও পুরো পরিবারকে আর্থিকভাবে দেউলিয়া করে দেয়।

ইয়ামাগামির এই অভিযোগের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত এবং গণবিবাহের জন্য পরিচিত ইউনিফিকেশন চার্চের বিরুদ্ধে জাপানে তদন্ত শুরু হয়। চলতি বছরের মার্চে টোকিওর একটি আদালত চার্চটি বন্ধ করে দেয়ার আদেশ দেয়। চার্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ‘শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে’।

ইউনিফিকেশন চার্চের বিরুদ্ধে বিতর্ক নতুন নয়। চার্চটি বিবাহকে আধ্যাত্মিক মুক্তির প্রধান পথ হিসেবে শিক্ষা দেয়। আবের দাদা নোবুসুকে কিশিরও (তিনি নিজেও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন) চার্চটির কমিউনিজমবিরোধী অবস্থানের কারণে এর প্রতি প্রবল সমর্থন ছিল। 

শিনজো আবেও চার্চ–সংশ্লিষ্ট কিছু অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন। গত মাসে আদালতে শুনানির সময় আইনজীবীরা আবের স্ত্রী আকিয়ে আবের একটি বিবৃতি পড়ে শোনান। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘স্বামীকে হারানোর শোক কখনোই লাঘব হবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *