সিন্ধু জল চুক্তি (আইডব্লিউটি) অবিলম্বে কার্যকরের জন্য ভারতকে ফের আর্জি জানাল পাকিস্তান। পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এই চুক্তির স্থগিতের কারণে সে দেশের জনগণের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন এবং ভারতকে এটি পুনরায় কার্যকরের জন্য আবেদন করেছেন। এছাড়াও, নয়া দিল্লির এই চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে অভিন্ন জল সম্পদের ইচ্ছাকৃত অস্ত্রায়ন বলে সমালোচনাও করেছেন তিনি। গত বছর পহেলগাঁওতে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর থেকেই ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী ঘটনার জেরে ভারত-পাক সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। এরপর একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয় ভারত সরকার, যার মধ্যে অন্যতম এই জলচুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা।
বিশ্ব জল দিবস উপলক্ষে এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভারতের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘যৌথ জল সম্পদের এই ইচ্ছাকৃত সামরিকীকরণ গভীর উদ্বেগের বিষয়। চুক্তিটি স্থগিত রাখা, জল সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান ব্যাহত করা এবং সম্মত প্রক্রিয়াগুলোতে বাধা দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত ভারত নিয়েছে, তা ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সিন্ধু নদ ব্যবস্থার ন্যায়সঙ্গত বণ্টন পরিচালনাকারী দীর্ঘস্থায়ী আন্তর্জাতিক চুক্তির মূল চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে।’ তিনি আরও জানান, এ ধরনের আচরণ খাদ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এটি এই জলের ওপর নির্ভরশীল লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকাকে বিপন্ন করছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে আন্তঃসীমান্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে। সব শেষে তিনি ফের বলেন, ‘আমি ভারতকে অবিলম্বে চুক্তিটি কার্যকর করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
পাকিস্তানিরা সমস্যার সম্মুখীন
তাঁর বার্তায় জারদারি চুক্তি স্থগিতের কারণে পাকিস্তানের সমস্যাগুলির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘পাকিস্তানের অনেক পরিবারকে এখনও দূরবর্তী বা অনিরাপদ জলের উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়। মহিলা ও মেয়েরা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা জল আনতে ব্যয় করছে। অথচ এই সময় তারা স্কুলে যেতে, কাজ করত বা পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারত।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘বিশুদ্ধ জলের অভাব স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় এবং পারিবারিক জীবনে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। সুতরাং, এই ঘাটতি মোকাবেলা করা কেবল একটি সরকারি পরিষেবা প্রদানের বিষয় নয়, বরং সকলকে সমান সুযোগ প্রদানের বিষয়।’

ভারতের সঙ্গে আলোচনা আর্জি
সম্প্রতি জারদারি ভারতের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে কথা বলেছেন। পাক পার্লামেন্টের দুই কক্ষের সদস্যদের সামনে পাকিস্তানের শাসকজোটের শরিক দল পিপিপি-র নেতা জারদারি বলেছিলেন, ‘ভারতের নেতারা বলছেন, তাঁরা আরও একটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চিরদিন আমি আঞ্চলিক শান্তির পক্ষে সওয়াল করে এসেছি। তাই আমি এটা (ভারতের যুদ্ধপ্রস্তুতি) অনুমোদন করছি না।’ এই সূত্রেই ভারতকে শান্তির বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর স্বামী। জারদারি বলেন, ‘ওঁদের (ভারত) জন্য আমার বার্তা এটাই যে, যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে আলোচনার টেবিলে আসুন। কারণ এটাই আঞ্চলিক নিরাপত্তার একমাত্র পথ।’ সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত রাখায় ভারতের সমালোচনাও করেছেন জারদারি। পাক প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, ভারত ‘জল-সন্ত্রাসবাদ’ চালাচ্ছে এবং স্বাভাবিক জলপ্রবাহ রুখে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।