রাধিকা আপ্তে মানেই আনকাট। তথাকথিত মশালা ছবির অংশ হতে কোনওদিনই দেখা যায়নি তাঁকে। অন্য ধারার ছবির মাধ্যমেই দর্শক মনে পাকা জায়গা করে নিয়েছেন ‘পার্চড’ নায়িকা। বলিউডে তাঁর ফিল্মি কেরিয়ার মসৃণ ছিল তেমনটা নয়। আজকের এই জনপ্রিয় নায়িকা বহুবার ‘রিজেকশন’-এর মুখোমুখি হয়েছেন, এবং আজ হচ্ছেন।
হিন্দি, তামিল, তেলেগু, কন্নড়, বাংলা এবং মালয়ালম সহ বেশ কয়েকটি ভাষায় অভিনয় করেছেন রাধিকা আপ্তে। অভিনেত্রী সম্প্রতি দক্ষিণ ভারতের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। রাধিকা জানান, কয়েকটি ছবিতে কাজ করার জন্য তিনি ‘কঠিন সময়’ পার করেছেন, তবে কারও নাম প্রকাশ করেননি। রাধিকা স্মরণ করেছিলেন যে একবার তাঁকে একটি ছবির জন্য স্তনে এবং নিতম্বে প্যাডিং যুক্ত করতে বলা হয়েছিল।
রাধিকা বলেন, ‘আমি দক্ষিণ ভারতের কিছু ছবি করেছি কারণ আমার সত্যিই টাকার দরকার ছিল। ব্যাপারটি হ’ল এমন ভাল সিনেমাও রয়েছে, বিশেষত দক্ষিণ ভারতে। আমি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রকে নীচু করার চেষ্টা করছি না কারণ প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রিতে অবিশ্বাস্য সিনেমা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে আছে যে একটি চলচ্চিত্রে আমি করেছি, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এই ছোট্ট শহরে শুটিং করার সময় সেটে আমিই একমাত্র মহিলা। তাঁরা আমার নিতম্বে এবং স্তনে আরও প্যাডিং যুক্ত করতে চেয়েছিল। তাঁদের মুখে এক বুলি, ‘আরও প্যাডিং আম্মা!’ এবং আমি এক সময় বিরক্ত হয়ে বলি কাউকে আর কত গোলগাল বানাতে চান। তাই আমি বলেছিলাম যে পরিচালককে বলুন, ‘কোনও প্যাডিং নেই। সেটে আমিই ছিলাম একমাত্র নারী! আমার কোনও ম্যানেজার ছিল না, কোনও এজেন্ট ছিল না, দলটিতে সবাই পুরুষ ছিল! সেদিন প্রথমবারের মতো আমি বুঝতে পেরেছিলাম ওহ মাই গুডনেস!” রাধিকা ‘অল ইন অল আঝাগু রাজা’, ‘ভেট্রি সেলভান’ এবং ‘কাবালি’র মতো তামিল ছবিতে কাজ করেছেন। তিনি নন্দমুরি বালাকৃষ্ণের বিপরীতে লেজেন্ড নামের একটি তেলুগু ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন।

তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও ইন্ডাস্ট্রির নোংরা দিকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন রাধিকা। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, নিজের শরীরকে বদলে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। বডি শেমিং নিয়ে রাধিকা জানিয়েছিলেন, তাঁকে প্রথমে নাকের সার্জারি, আর তারপর স্তন ট্রান্সপ্লান্ট করার কথা বলা হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, অভিনেত্রী পা, থুতনি, গালেও খুঁত ধরে সেগুলো অস্ত্রোপচার করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। হাসতে হাসতে রাধিকা বলেছিলেন, ‘চুলে রং করতে আমার ৩০ বছর সময় লেগেছে’।
এই সব পরামর্শকে কোনওদিনই গায়ে মাখেননি রাধিকা। আসলে শরীরে যত্ন নেওয়ায় বিশ্বাসী হলেও সেটি পালটে ফেলতে রাজি নন তিনি, পাশাপাশি নিজের অভিনয় দক্ষতাকে ঘষে মেজে আরও নিঁখুত করে তুলতেই বেশি মনযোগ দেন তিনি। রাধিকাকে সম্প্রতি দুটি ওটিটি রিলিজে দেখা গেছে, সালি মোহাব্বত যা জি-৫ এ মুক্তি পেয়েছে এবং রাত আকেলি হ্যায়- দ্য বনসাল মার্ডারস যা নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে।