১৮টি অবৈধ বসতিতে অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদন ইসরাইলের

Spread the love

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের আরও ১৮টি অবৈধ ইহুদি বসতিতে বসবাসকারী ইসরাইলিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার অনুমোদন দিয়েছেন ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী উগ্র ডানপন্থি নেতা ইতামার বেন-গভির।এই সিদ্ধান্তকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি সরকারের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। এতে করে ভবিষ্যতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও দুর্বল হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, গত বুধবার টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় বেন-গভির বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট বসতিগুলোতে থাকা বাসিন্দারা ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তার দাবি, এর উদ্দেশ্য হলো আত্মরক্ষা জোরদার করা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা।

তবে ফিলিস্তিনিরা ও আন্তর্জাতিক মহলের একটি অংশ বলছে, অবৈধ বসতিতে অস্ত্র ছড়িয়ে দেয়ার ফলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে এবং পশ্চিম তীরে উত্তেজনা আরও তীব্র হবে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে।

এদিকে পশ্চিম তীরের রাশ এইন আল-আউজা গ্রামের শত শত ফিলিস্তিনি বাসিন্দা ইসরাইলি সেটলারদের আগ্রাসনের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন, যার ফলে পুরো গ্রামের সব মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

৪৫ বছর বয়সি নায়েফ ঘাওয়ানমেহ দু’বছর যাবৎ মানসিক যন্ত্রণায় রাতে ঘুমাতে পারেন না। তিনি তার মানসিক যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘রাতে ঘুমালে যদি সেটেলাররা ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়, এই ভয়ে দু’বছর ঠিক মতো ঘুমাই না। আমার জীবন এখন যেন পুরোপুরি থমকে গেছে। আমাদের জীবন নিজ নিজ বাড়ির মধ্যে বন্দি হয়ে গেছে, কারণ ইহুদি সেটেলাররা এখন বাড়ির ঠিক বাইরেই পশুপালন করে।’

চলতি বছরের শুরু থেকে প্রায় ৬৫০ জনের মধ্যে ৪৫০ জন গ্রামছাড়া হয়েছে। গ্রামের বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছে। গবাদি পশুগুলো হয় চুরি করা হয়েছে, নতুবা বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলা হয়েছে। জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। এখন মাত্র ১৪টি পরিবার অবশিষ্ট, তাদের মধ্যে অনেকেরই শিশু রয়েছে এবং তাদের যাওয়ার অন্য কোনো ঠিকানা নেই।

ঘাওয়ানমেহ বলেন, ‘পূর্বপুরুষের ভূমির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু উত্তরাধিকার নয়, তার চেয়েও গভীর। নিজের ঘর আর গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়া ভীষণ কঠিন। কিন্তু আমাদের তা করতে বাধ্য করা হয়েছে।’

শিশুদের জন্য গান পরিবেশনের মতো কিছু ক্ষণিক স্বস্তির মুহূর্ত থাকলেও পশ্চিম তীরবাসীর জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও ক্ষতির মানসিক যন্ত্রণা কাটেনি এখনও। ঘাওয়ানমেহ বলেন, ‘আমার জন্য যতই গান গাওয়া হোক, তাতে আমি সুখী হব না। আমি আসলে ভেঙে পড়েছি। দুই বছর ধরে সেটেলারদের নির্যাতন, কষ্ট আর সমস্যার মধ্যে দিন-রাত কাটাচ্ছি। আমি যথেষ্ট ক্লান্ত।’

পশ্চিম তীরজুড়ে সশস্ত্র সেটেলারদের তৈরি করা এসব ফাঁড়ি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে তরুণদের নিয়ে গঠিত এসব দল সরকারি সহায়তাও পাচ্ছে। তারা প্যালেস্টাইনিদের চারণভূমি দখল করছে এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হাজার হাজার মানুষ জোরপূর্বক ঘরছাড়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *