কেউ কেউ ফুটবল খেলেন, কেউ আবার ফুটবল দিয়ে শিল্প সৃষ্টি করেন। বোস্টনের মাঠে নরওয়ের বিপক্ষে উসমান দেম্বেলে যেন সেই দ্বিতীয় ভূমিকাতেই অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ম্যাচের প্রথমার্ধে তাঁর গতি, ড্রিবলিং, ফিনিশিং এবং আক্রমণভাগের দাপটে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছিল নরওয়ের রক্ষণ। মাত্র ৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন নজির গড়লেন ফরাসি এই তারকা। তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্সে নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ‘আই’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। সপ্তম মিনিটেই প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দেম্বেলে। এরপর ২০ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান তিনি। যদিও এক মিনিট পর থেলো অসগার্ডের গোলে নরওয়ে ব্যবধান কমায়। কিন্তু সেই আশাও বেশিক্ষণ টিকতে দেননি দেম্বেলে। ৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে তিনি কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স আক্রমণের ধার বজায় রাখে। যোগ করা সময়ে বদলি হিসেবে নামা দেজিরে দুয়ে দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন। ফলে ৪-১ ব্যবধানে সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফরাসিরা। এই জয়ে তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘আই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পের দল। শেষ ৩২ দলের নকআউট পর্বে আগামী মঙ্গলবার (ভারতীয় সময় – ১ জুলাই ভোররাত আড়াইটে) নিউ জার্সিতে মাঠে নামবে ফ্রান্স। তাদের প্রতিপক্ষ সুইডেন।
অন্যদিকে, নরওয়ে ম্যাচের আগে বড় চমক দেয়। দলের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডকে বেঞ্চে রেখে একাদশে মোট ১০টি পরিবর্তন আনা হয়। সেই সিদ্ধান্ত যে খুব একটা কার্যকর হয়নি, তা ম্যাচের ফলেই স্পষ্ট। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি পেলেও ইয়র্গেন স্ট্রান্ড লারসেন গোল করতে ব্যর্থ হন। তাঁর দুর্বল শট সহজেই আটকে দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ। তবে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের রানার্স-আপ হিসেবে নকআউটে উঠেছে নরওয়ে। শেষ ৩২ দলের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘ই’ গ্রুপের রানার্স-আপ আইভরি কোস্ট।

একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইরাককে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সেনেগাল। ম্যাচের ১৩ মিনিটে ইরাকের রেবিন সুলাকা লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় জয় তুলে নেয় সাদিও মানের দল। যদিও তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা সেনেগালের নকআউটে ওঠা নির্ভর করছে অন্য গ্রুপগুলির ফলাফলের উপর। অন্যদিকে, তিন ম্যাচেই হেরে কোনও পয়েন্ট না পেয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ইরাক।