14 Ukrainians Came to India। জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ৬ জন ইউক্রেনীয় ধরা পড়েছে

Spread the love

ভারত থেকে মিজোরাম হয়ে মায়ানমার গিয়ে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মামলায় ধরা পড়েছে ৬ জন ইউক্রেনীয়। তবে জানা গিয়েছে, সেই গ্রুপে ইউক্রেন থেকে ১৪ জন এসেছিল ভারতে। এই ১৪ জনই ভারত থেকে মায়ানমারে গিয়েছিল। এহেন পরিস্থিতিতে বাকি ৮ জন ইউক্রেনীয় কোথায়, সেই বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ। এই ইউক্রেনীয়রা মায়ানমারে আছে নাকি ভারত হয়ে ইতিমধ্যেই পালিয়ে গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে।

এনআইএ-র প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে প্রায় তিন মাস ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালিয়েছে এনআইএ-র দল। পরে ভারতের তিনটি শহর থেকে ধরা হয়েছিল ভ্যানডাইক, ম্যাক্সিম হোনচারুক, পেট্রো হুবরা, সুকমানোভস্কি ইভান, স্টেফানকিভ মারিয়ান, স্লিভিয়াক তারাস এবং কামিনস্কি ভিক্টরকে।

এদিকে মায়ানমারে ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার কজন আবার ইউক্রেনের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করলেন আইরিশ সাংবাদিক চেয় বাওয়েস। তিনি দাবি করলেন, ধৃত মারিয়ান স্টেফানকিভ ইউক্রেনের ইন্টেলিজেন্স সংস্থা GUR-এর সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও নাৎজি সংগঠন ‘রাইট সেক্টরের’ সঙ্গেও মারিয়ান যুক্ত ছিল বলে দাবি করেন বাওয়েস। এদিকে ইউক্রেনের প্রাক্তন সাংসদ ভাদিম রবিনোভিচ আবার দাবি করেছেন, এই মারিয়ান ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী ইউনিট আরাটা ভলান্টিয়ারের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও ‘কোলো চস্তি’ নামে একটি এনজিও-র প্রতিষ্ঠাতা এই মারিয়ান। ভারতে ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের অধিকাংশই এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন প্রাক্তন সাংসদ রবিনোভিচ। ইউক্রেনের প্রাক্তন সাংসদ দাবি করেন, মারিয়ান এবং তার সংগঠন একটা সময় ইউক্রেনে পাইপলাইন উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

অপরদিকে দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনিয়ান দূতাবাস দাবি করল, ধৃতদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে ইউক্রেনের যুক্তি, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যে এই ৬ জন যুক্ত ছিল, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের আরও দাবি, ভারতে অনেক সংরক্ষিত এলাকা আছে যেখানে বিনা অনুমতিতে যাওয়া নিষেধ, তবে সেই সব জায়গা চিহ্নিত করা নেই। এই আবহে ‘ভুল’ করে এই ইউক্রেনিয়ানরা সংরক্ষিত জায়গায় চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এখানে প্রশ্ন উঠছে, ভুল করে সংরক্ষিত জায়গায় চলে গেলেও, আন্তর্জাতিক সীমান্তও পার করা যায় ভুলবশত?

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র ১৮ নং ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের ৩ জনকে লখনউ এবং ৩ জনকে দিল্লি বিমানবন্দরে ধরেছিল ইমিগ্রেশন ব্যুরো। পরে তাদের এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ৭ বিদেশি বৈধ ভিসাতেই ভারতে এসেছিল। তবে বিনা অনুমতিতে তারা মিজোরামে গিয়েছিল। সেখান থেকে তারা মায়ানমারে গিয়েছিল এবং ভারতবিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে দেখা করেছিল। সেখানে তারা সেই সব জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে, ইউরোপ থেকে একাধিক ড্রোন মিজোরামে আমদানি করেছিল এই বিদেশিরা। এনআইএ অভিযোগ করেছে, ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার ছক কষছিল এই বিদেশিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *