Iran War Latest Update। কাতারে ভয়াবহ হামলা ইরানের! ভারতে বাড়বে গ্যাসের সংকট?

Spread the love

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক ইরান। এই আবহে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস প্লান্টে হামলা চালাল তারা। কাতারের রাস লাফানে অবস্থিত এই গ্যাস প্লান্টে হামলার ঘটনায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়ে গিয়েছে। এই হামলার পরে কাতার গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। আর এর জেরে ভারতের মতো দেশে রান্নার গ্যাস (এলপিজি) ও প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) গভীর সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ ভারত নিজেদের মোট এলএনজি চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ (বার্ষিক প্রায় ২৭ মিলিয়ন টন) কেবল কাতার থেকে আমদানি করা হয়। এদিকে এই হামলার জেরে এশিয়ান এলএনজি বেঞ্চমার্কের দাম প্রায় ৩৯ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতে গ্যাস সিলিন্ডার ও সিএনজির দামে।

এর আগে সম্প্রতি ইরানের ‘পারস গ্যাস ক্ষেত্রে’ ইজরায়েল হামলা চালিয়েছিল। এরই প্রতিশোধ নিতে কাতারে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এছাড়া সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতেও (ইউএই) হামলা চালিয়েছে ইরান। এর আগেই ইরান সৌদি, আমিরাতি এবং কাতারি নাগরিকদের তেল ও গ্যাস স্থাপনার এলাকা থেকে সরে যেতে বলে। এই সব পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামালা চালানো হবে বলে আগম বার্তা দেয় ইরান। এই আবহে কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স ও রাস লাফান শোধনাগার, সৌদি আরবের জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাস ক্ষেত্রে উড়ে যায় ইরানি মিসাইল।

এদিকে ইরানের এই হামলায় কার্যত হতভম্ব হয়ে পড়েছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের পারস গ্যাস ক্ষেত্রে যে ইজরায়েল হামলা চালাবে, তা তাঁর জানা ছিল না। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেছেন, ‘এরপর ইজরায়েল আর কোনও হামলা করবে না’। এরই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেন, কাতারের এলএনজি স্থাপনায় আবার হামলা হলে ইরানের পুরো গ্যাসক্ষেত্র উড়িয়ে দেবে আমেরিকা।

এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই হামলাকে তাদের দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। উল্লেখ্য, কাতার এই গ্যাস মজুদ ইরানের সঙ্গে ভাগ করে নেয়। অবশ্য ইরানের এখনকার মন্ত্র- আমরা ডুবলে সবাইকে নিয়ে ডুবব। এই আবহে ইরান চলমান যুদ্ধকে সামরিক থেকে অর্থনৈতিক যুদ্ধে পরিণত করেছে। ইরানের তরফ থেকে এটা একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন। এতদিন মূলত সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টারের ওপর বেশি হামলা চালাচ্ছিল ইরান। তবে এবার বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামোকে সরাসরি টার্গেট করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *