পঞ্চম বেতন কমিশনের অধীনে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ ৩১ মার্চের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এই আবহে রাজ্য সরকার গত ১৩ মার্চ জানিয়েছিল, আপাতত ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে দুই দফায়। তবে এবার সরকার জানিয়ে দিল, দুই দফায় নয়, এক দফাতেই এই কিস্তির বকেয়া মিটিয়ে দিতে চলেছে সরকার। আগামী ৩১ মার্চ কিংবা তাঁর আগেই বকেয়া এই মহার্ঘ ভাতা পেয়ে যাবেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা।
সরকার জানিয়েছে, চতুর্থ শ্রেণির কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত ও পারিবারিক পেনশনভোগীরা টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন। অন্য কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র কিস্তি জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। এদিকে জিপিএফ-এ জমা হওয়া টাকা অন্তত ২ বছর তোলা যাবে না। তবে কোনও কর্মী যদি এই সময়ের মধ্যে অবসর নেন, চাকরি ছাড়েন বা মৃত্যু হয়, তাহলে টাকা সঙ্গে সঙ্গে তোলা যাবে। এদিকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বা পারিবারিক পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ-র কিস্তির টাকা জমা হবে পেনশন অ্যাকাউন্টে।
এদিকে একবারে এই কিস্তির বকেয়া ডিএ পাওয়া গেলেও সরকারের ‘হিসেবে’ অসন্তুষ্ট সরকারি কর্মীরা। এই নিয়ে ডিএ আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না সরকার, তার থেকে অনেক কম পরিমাণ টাকা দেওয়া হচ্ছে কর্মীদের। এই নিয়ে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, ‘অল ইন্ডিয়া কনজিউমার ইন্ডেক্স মেনে যে পরিমাণ টাকা সরকারি কর্মীদের পাওয়ার কথা, তা তাঁরা পাচ্ছেন না। যেখানে রাজ্য সরকারের ১০০ টাকা দেওয়ার কথা, সেখানে তারা পাঠিয়েছে মাত্র ৫৩ টাকা। পোর্টালের মাধ্যমে বকেয়া টাকার পরিমাণ জেনে নেওয়ার পরেও সরকার কম টাকা দিচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে ছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার কর্মীদের বকেয়া ডিএ মামলা। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত যে মামলাটি চলছে, সেটা পঞ্চম বেতন কমিশন সংক্রান্ত। ২০১৬ সাল থেকে সেই মামলা চলছে। এই মামলাটি স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল, কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসেছে। প্রথমে স্যাটে জয় পেয়েছিল রাজ্য সরকার। তারপর থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে জয় পেয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। এর আগে ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল রাজ্য সরকারকে। কারণ, ২০২৫ সালেই বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ সরকার মানেনি। পরে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতার সরকর। তবে সেখানেও সরকারের হার হয় শেষ পর্যন্ত।