Abhishek on Malda BSF Jawan Death। মণিপুরে শহিদ মালদার জওয়ান! ‘পরিবর্তন’ নিয়ে মোদী-শাহকে তোপ অভিষেকের

Spread the love

Abhishek on Malda BSF Jawan Death: ভোটমুখী বাংলায় রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই মণিপুর ইস্যু তুলে বিজেপিকে বেনজির আক্রমণ শাণালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মণিপুরে কর্তব্যরত অবস্থায় মালদার এক বিএসএফ জওয়ানের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করার পাশাপাশি কেন্দ্রের মোদী সরকারকে তীব্র বিঁধলেন তিনি। অভিষেকের সাফ কথা, যাঁরা বাংলায় ‘পরিবর্তন’-র ডাক দিচ্ছেন, তাঁদের আগে মণিপুরের জ্বলন্ত পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া উচিত।

কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যু মালদার মিঠুন মণ্ডলের

গত শুক্রবার মণিপুরের উখুরুল জেলায় টহল দেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন বিএসএফের ১৭০ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কনস্টেবল মিঠুন মণ্ডল। বিএসএফ সূত্রে খবর, বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের ছোড়া একটি বুলেট তাঁর গায়ে লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে ইম্ফল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

শহিদ এই জওয়ানের বাড়ি মালদার কালিয়াচক সংলগ্ন ভাগজান টোলা গ্রামে। তাঁর অকাল প্রয়াণে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে স্ত্রী এবং সন্তানকে রেখে গিয়েছেন তিনি। দেশের সীমান্তরক্ষা করতে গিয়ে এক বাঙালি জওয়ানের এই আত্মত্যাগ বর্তমানে বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

‘পরিবর্তন’ নয়, আগে মণিপুর সামলান: অভিষেক

শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বিজেপি নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি লেখেন, ‘মণিপুরের উখুরুল জেলায় কর্মরত অবস্থায় মালদার এক সাহসী বাঙালি বিএসএফ জওয়ান শহিদ হয়েছেন। যাঁরা বাংলাকে পরিবর্তন নিয়ে জ্ঞান দেন, তাঁদের উচিত আগে মণিপুরের দিকে তাকানো।’ অভিষেকের অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে মণিপুরে জাতিগত হিংসা চললেও মোদী বা শাহের সেখানে যাওয়ার সময় নেই।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলায় প্রচার করার অঢেল সময় রয়েছে, কিন্তু জ্বলন্ত মণিপুরে গিয়ে শান্তি ফেরানোর জন্য এক মিনিট সময় নেই। সেখানে গত তিন বছরে প্রায় ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া।’

মোদী-শাহকে সরাসরি নিশানা

বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা বারবার বাংলায় এসে সরকার পরিবর্তনের দাবি তুলছেন। এই প্রেক্ষাপটে অভিষেক মনে করিয়ে দেন যে দেশের একটি রাজ্য যখন অশান্তির আগুনে পুড়ছে, তখন কেন্দ্রের শাসকরা সেখানে সমাধান সূত্র বের না করে বাংলার ক্ষমতা দখলের স্বপ্নে মশগুল। তাঁর দাবি, ‘বাংলার মানুষের কাছে ভোট চাওয়ার আগে মোদী-শাহের উচিত মণিপুরের অসহায় মানুষদের জন্য অর্থবহ কিছু করা।’ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, মণিপুরে ডাবল ইঞ্জিন সরকার থাকা সত্ত্বেও কেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেল, তার উত্তর দিতে হবে বিজেপিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *