Afghanistan Pakistan War Latest Update। রাতের অন্ধকারে কাবুলের হাসপাতালে এয়ারস্ট্রাইক পাকিস্তানের! নিহত অন্তত ৪০০

Spread the love

সোমবার গভীর রাতে আফগানিস্তানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। কাবুলের এক হাসপাতালে আছড়ে পড়ে পাকিস্তানি মিসাইল। এর জেরে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪০০ জনের। জখম আরও কমপক্ষে ২৫০ জন। তালিবান সরকারের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পাকিস্তানি হামলায় হাসপাতালের একটা বড় অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছে তালিবান সরকার। সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্স হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি আফগানিস্তানের সীমান্ত লঙ্ঘন। তিনি বলেন, নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই মাদকাসক্তির কারণে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি অবশ্য হাসপাতালে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘কাবুলের কোনও হাসপাতালে হামলা করা হয়নি। যেখানে অভিযান চালানো হয়েছে, সেখানে গোলাবারুদ মজুদ রাখা হত। সন্ত্রাসবাদীদের যেখান থেকে সাহায্য করা হত, সেই জায়গাগুলিকে নিশানা করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য, এই দফায় টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই সংঘাত।

প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর হতে না হতেই আফগানিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলার জবাবে এই এয়ারস্ট্রাইকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এদিকে ২২ তারিখের পাক হামলার জবাবে আফগানিস্তানও পালটা হামলা চালায় পাকিস্তানের ওপরে।

পরে গত ১ মার্চ পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে নূর খান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল তালিবান। ড্রোন দিয়ে পাক বায়ুসেনা ঘাঁটিতে সেই হামলা চালানো হয়েছিল। নূর খান ছাড়াও বালোচিস্তানের কোয়েট্টায় অবস্থিত পাক সেনার ১২তম ডিভিশনের সদর দফতরে হামলা চালানোর দাবি করেছে তালিবান। এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ায় মহমন্দ এজেন্সির খাওয়াজি ক্যাম্পেও হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তান। এছাড়াও পাকিস্তানের আরও একাধিক সামরিক স্থাপনা এবং কমান্ড সেন্টারে আফগানিস্তানের ড্রোন আছড়ে পড়েছে বলে দাবি করে তালিবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর আগে আফগানিস্তানের জালালাবাদে একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করে তালিবান। সেই ঘটনায় এক পাক পাইলটকে আটক করার দাবি জানিয়েছিল তালিবান।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালিবান। আর সেই সব জঙ্গি তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এদিকে তালিবানের পালটা অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠিত হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম হয়েছিল। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

এই আবহে গত ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালায় আফগনরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে দাবি করে তালিবান। এদিকে পাক সেনা দাবি করে, তাদের ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। তারপর গত ১৪ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ১৫ আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছিল। পরে নভেম্বরের শুরুতেও ফের আফগানিস্তানের স্পিন বলডক অঞ্চলে পাকিস্তানের তরফ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। সেই সংঘাত নতুন করে শুরু হয় ফেব্রুয়ারিতে। এবং এখনও তা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *