Ammonia gas leak। সিফুড কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক করে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

Spread the love

Tamil Nadu ammonia gas leak: তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলায় একটি সিফুড প্রসেসিং ইউনিটে (সামুদ্রিক মাছ ও চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র) ভয়াবহ অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকের ঘটনা ঘটেছে। এই বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ফলে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৬৭ জনেরও বেশি। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রের খবর, রবিবার তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়াপালায়মের কাছে কান্নিকাইপ্পের এলাকার সেন্ট পিটার্স পল সিফুডস এক্সপোর্টস-এ হঠাৎই অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে কারখানার ভিতরে থাকা শ্রমিকদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। এর পর এক এক করে অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। প্রাথমিকভাবে ২০ জনের বেশি মানুষ অসুস্থ হয়েছে বলা জানা যায়। তবে ধীরে ধীরে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে বলে খবর। এদিকে, জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পরই আরাক্কোনামে থাকা আপৎকালীন উদ্ধারকারী দল এনডিআরএফ (ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স)-এর ৪র্থ ব্যাটালিয়ন একটি বিশেষ কেমিক্যাল, বায়োলজিক্যাল, রেডিওলজিক্যাল অ্যান্ড নিউক্লিয়ার (সিবিআরএন)-কে ঘটনাস্থলে পাঠায়।

৩০ সদস্যের ওই দলটি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই), গ্যাস শনাক্তকারী যন্ত্র এবং সিবিআরএন উদ্ধার সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, গ্যাস লিক হওয়া এলাকা বিচ্ছিন্ন করা, লিকের প্রভাব মূল্যায়ন করা এবং জনসুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে। এদিকে, তিরুভাল্লুরের জেলাশাসক এস কবিতা জানিয়েছেন, গ্যাস লিকের ঘটনায় মোট ৬৭ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে ভেলোর হাসপাতালে ৪৬ জন, ভেঙ্কটেশ্বরা হাসপাতালে ২১ জন এবং চেন্নাই স্ট্যানলি মেডিকেল কলেজ ৯ জন ভর্তি রয়েছেন। তবে এঁদের মধ্যে ৯ জন শ্রমিকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স করে তাঁদের চেন্নাইয়ের সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়েই কড়া পদক্ষেপ করেছেন তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। ঘটনার আসল কারণ অনুসন্ধানের জন্য তিনি একটি ৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত কমিটিতে থাকবেন শিল্প নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য অধিকর্তা, তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্য সচিব এবং জনস্বাস্থ্যের অতিরিক্ত অধিকর্তা। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, এই কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট এবং আগামী ৩ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট আকারে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্তদের সব রকমের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবিলম্বে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সরকারি তরফে।

আগেও ঘটেছে এমন ঘটনা

২০ জুলাই ২০২৪: তুতিকোরিন (থুথুকুড়ি) জেলার পুদুর পাণ্ডিয়াপুরম এলাকায় একটি বেসরকারি সিফুড প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় কথিত অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকের ঘটনায় প্রায় ২৯ জন মহিলা শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁরা শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা এবং মাথা ঘোরার অভিযোগ করেন। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাটি সম্ভবত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট ধোঁয়ার কারণে হয়েছিল, অ্যামোনিয়া লিকের কারণে নয়।২৭ ডিসেম্বর ২০২৩: চেন্নাইয়ের এন্নোরে একটি সার কারখানার পাইপলাইন থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হওয়ায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন। স্থানীয় বাসিন্দারা শ্বাসকষ্ট ও বমিভাবের অভিযোগ করেছিলেন। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কারখানার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *