Annapurna Yojana Protests: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা মেলেনি কেন, প্রশ্নে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ-অসন্তোষ অব্যাহত। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার-ঘোষিত মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন একাংশ মহিলা। এই আবহে পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রশাসনিক ভবনে বৈঠকের মাঝে মহিলাদের বিক্ষোভের জেরে উঠে আসতে বাধ্য হলেন পুর-নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনায় রেলপথ অবরোধ করলেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না-পাওয়া মহিলারা।
শুক্রবার এক কর্মসূচিতে যোগ দিতে মেদিনীপুরে গিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। জেলাশাসকের অফিসে ঢোকার আগে একদফা প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। সেই সময় মন্ত্রীকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। তখনই পাশ থেকে একাধিক মহিলা বলে ওঠেন, ‘দিদি, অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাচ্ছি না কেন? তিন মাস হয়ে গেল, পাচ্ছি না।’ স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়েন মন্ত্রী। সমস্যার কথা স্থানীয় বিধায়ককে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। এরপর বৈঠক চলাকালীন জেলাশাসকের দফতরের নীচতলায় ঢুকে পড়েন বিক্ষুব্ধ মহিলারা। বাধ্য হয়ে দুপুর আড়াইটেয় পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বন্ধ করে নীচে নেমে আসেন মন্ত্রী। বিক্ষোভ সামাল দিতে যান জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা এবং স্থানীয় বিধায়ক শঙ্কর গুছাইতও। মহিলাদের উদ্দেশে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘একটু সময় দিন। সবে তো ১০০ দিন হয়েছে।’ সঙ্গে সঙ্গে কোলাহাল বাড়ে। মন্ত্রী আবার বলেন, ‘আস্তে কথা বলুন। তা হলেই শুনতে পাব।’
মন্ত্রী জানান, সমাধান চান বলেই তিনি বৈঠক ছেড়ে উঠে এসেছেন। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকার জন্য এসডিও অফিসে গিয়ে নাম, ফোন নম্বর, এনরোলমেন্ট নম্বর জমা দিতে বলেন। সেই সঙ্গে অগ্নিমিত্রা পালের সংযোজন, ‘ভেরিফিকেশনে কেন (নাম) কাটা গিয়েছে, সেটা দেখছি। জুন, জুলাইয়ে কী টাকা পেয়েছেন?’ জবাবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকার দাবি করা মহিলারা সমস্বরে বলেন, ‘এক মাসও পাইনি।’ তখন মন্ত্রী জেলাশাসককে বলেন, ‘একজন নোডাল অফিসার দিন।’ মহিলারা তাঁদের অভিযোগ জানাতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, টাকার জন্য এই অফিস-ওই অফিস ছুটতে বাধ্য করা হচ্ছে তাঁদের। এসডিও অফিস গেলে বলা হচ্ছে পুরসভায় যেতে। পুরসভায় গেলে বলা হচ্ছে এসডিও অফিসে যেতে। তখন মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এসডিও এবং বিডিও অফিস যান, সেখানেই জমা দিন কাগজ। আমার মিটিং চলছে। আপনারা এসেছেন বলে আমি মিটিং ছেড়ে এখানে কথা বলতে এলাম। আপনাদের সমস্যা সমাধানের জন্যই এসেছি।’ মন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে ধীরে ধীরে বিক্ষোভকারী মহিলারা জেলাশাসকের অফিস থেকে বেরিয়ে যান।
অন্নপূর্ণা-বিক্ষোভ অব্যাহত
অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি স্টেশনে রেল অবরোধ করেছেন মহিলারা। শুক্রবার দুপুর দেড়টা নাগাদ রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। মহিলাদের অবরোধের জেরে এদিন এক ঘণ্টার বেশি লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিরাটি স্টেশনের শেষ প্রান্তে ফ্লাইওভারের তলায় জড়ো হয়েছিলেন কয়েকশো মহিলা। তাঁরা রেললাইনে নেমে পড়েন। এর জেরে হাসনাবাদ থেকে শিয়ালদহগামী ডাউন লোকাল ট্রেন দুপুর ১টা ৩৫ মিনিট নাগাদ বিরাটি স্টেশনে ঢোকার পর দাঁড়িয়ে যায়। তারপর একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। অবরোধকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারী মহিলা এবং ট্রেনযাত্রীদের মধ্যে তর্কাতর্কিও হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বেগ পেতে হয় রেল পুলিশকে। মহিলাদের অভিযোগ, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জন্য বারবার তথ্যপ্রমাণ যাচাই-সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দিয়েছেন। আবেদন অনুমোদিত (অ্যাপ্রুভ) দেখালেও এখনও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। অথচ বহু উপভোক্তা ইতিমধ্যেই টাকা পেয়ে গিয়েছেন। ফলে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। মহিলাদের দাবি, যোগ্য সকল উপভোক্তাকেই টাকা দিতে হবে। কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না।

এর পাশাপাশি, উত্তর দমদম পুরসভার সামনেও হয়েছে বিক্ষোভ। মহিলাদের অভিযোগ, যাঁদের প্রয়োজন, সব নথি জমা দেওয়ার পরেও তাঁরা যোজনার টাকা পাননি। অথচ, যাঁরা যোজনার টাকা পাওয়ার যোগ্য নন, তাঁদের একাংশের নাম তালিকায় রয়েছে। নির্বাচনের আগে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে অনেক গালভরা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে অন্নপূর্ণার টাকা না পেয়ে হাবড়া পুরসভাতেও বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। তাঁরা কটাক্ষ করে বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনার নাম বদলে ‘ঢুকেছে কী ঢোকেনি’ রাখুন।’ মহিলাদের দাবি, ‘যোগ্য সকল উপভোক্তাকে যদি টাকা দেওয়া হয়, তা হলে সবাইকে একসঙ্গে টাকা দেওয়া হোক। আর যদি কোনও সমস্যা বা তথ্যযাচাই বাকি থাকে, তা হলে আগে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে টাকা দেওয়া হোক।’ হয়রানির পরেও টাকা না পাওয়ায় সরকারি গাফিলতিকে দায়ী করছেন তাঁরা। একই ছবি হুগলিতেও। অন্নপূর্ণার টাকা পাননি বলে চণ্ডীতলা-২ বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন মহিলারা।