Avimukteshwaranand POCSO Case Update। নাবালক যৌন হেনস্থা মামলায় অভিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করছে পুলিশ

Spread the love

প্রয়াগরাজের ঝুন্সি থানায় শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে দায়ের করা পকসো আইনের মামলার তদন্তে তৎপর হয়েছে পুলিশ। পুলিশ নির্যাতিত এক নাবালকের মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়েছে। অন্য নির্যাতিত নাবালকেরও জবানবন্দি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ একত্রিত করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের তদন্তকারী দল মাঘ মেলা এলাকা পুনরায় পরিদর্শনে গিয়েছে। সেখানে উপলব্ধ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এছাড়াও মেলা এলাকার মোবাইল কল ডিটেলস, লোকেশন ডেটা স্ক্যান করা হচ্ছে। কথিত ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোথায় উপস্থিত ছিলেন তাও তদন্ত দল খতিয়ে দেখছে। বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চলছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে অভিযুক্তদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শঙ্করাচার্যের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন জগৎগুরু রামভদ্রাচার্যের শিষ্য আশুতোষ ব্রহ্মচারী। আদালতে দুই নাবালক ছেলের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছিল এই মামলায়। আশুতোষ ব্রহ্মচারীর অভিযোগে বলা হয়েছে, মাঘ মেলায় তাঁর শিবিরে দুই নাবালক ছেলে এসে অভিযোগ করে যে তাদের যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ২০২৫ সালের মহাকুম্ভ এবং ২০২৬ সালের মাঘ মেলায় এই দুই ছেলেকে বেশ কয়েকবার জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করা এই দুই নাবালকে ভয় দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, যৌন হেনস্থার শিকার হওয়ার সময় এক নির্যাতিত নাবালক প্রায় ১৪ বছর বয়সি ছিল এবং অপর এক নির্যাতিত নাবালকের বয়স ১৭ বছর ছিল। এর জেরে পকসো আইনের অধীনে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার জন্য নির্দেশ দেয় আদালত।

প্রসঙ্গত, শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মুক্তি নির্মাণ ট্রাস্ট এবং শাকুম্ভরী পীঠাধীশ্বরের সভাপতি আশুতোষ ব্রহ্মচারী গত ২৮ জানুয়ারি ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৭৩(৪) ধারার অধীনে অভিযোগ দায়েরের জন্য প্রয়াগরাজ আদালতে একটি আবেদন দায়ের করেন। আবেদনের শুনানি শেষে, ধর্ষণ এবং পকসো বিশেষ আদালত এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী আশুতোষ ব্রহ্মচারীর বক্তব্য আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে। আশুতোষ ব্রহ্মচারী অভিযোগ করেছিলেন যে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর শিষ্যরা তাদের গুরুর সেবা করার নামে এই শিশুদের যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেয়।আশুতোষ ব্রহ্মচারীর দাবি করেন, নির্যাতিত শিশুদের বক্তব্য এবং গুরুতর প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি প্রথমে ঝুনসি থানায় মামলা দায়েরের করার জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ মামলা দায়ের করতে অস্বীকার করলে তাঁকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর লালসার শিকার প্রায় ২০ জন নাবালকের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন বলে দাবি করেন আশুতোষ ব্রহ্মচারী। এমনকী শুধু নাবালক নয়, অনের নারীও নাকি অভিমুক্তেশ্বরানন্দের লালসার শিকার হয়েছেন। নারীদের যৌন নির্যাতনের সিডিও রয়েছে বলে জানান আশুতোষ ব্রহ্মচারী। সেই সিডি তিনি আদালতে জমা করেছেন। অবশ্য, স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ বলেন যে, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। এদিকে শঙ্করাচার্যের শিষ্য স্বামী মুকুন্দানন্দ গিরি আদালতে ১০৪ পৃষ্ঠার একটি হলফনামাও দাখিল করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *