ঘটনা গত ডিসেম্বর মাসের। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের ঢাকায় দিনে দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদিকে খুন করা হয়। সেই সময় ছিল বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর কিছুদিন পরই ইউনুস আমলে হাদির মৃত্যু হয়। ক্ষোভে উত্তাল বাংলাদেশে দিকে দিকে মব সন্ত্রাস দেখা যায়। জনতা জমায়েত করে একের পর এক খুন করে। হাদির মৃত্যুর রাতেই জনসমক্ষে পিটিয়ে খুন করে দীপু দাসের দেহে আগুন লাগানো হয়। সেই ঘটনায় ধৃত অন্যতম আসামি মো. মাসুম বাংলাদেশের হাইকোর্ট এক বছরের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছে। এদিকে, মব সন্ত্রাস নিয়ে এদিন ইউনুস জমানা সম্পর্কে মুখ খুললেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. জাহেদ।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মব বা গণপিটুনির মতো ঘটনাকে ভীষণভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এমনই রিপোর্ট উঠে এসেছে বাংলাদেশের মিডিয়ায়। এদিন জাহেদ বলেন, অতীতে কিছু সময়ে এসব (মব সন্ত্রাস) কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে সমাজে একটি ভুল প্রবণতা তৈরি হয়েছে। মানুষ মনে করছে, চাইলেই কাউকে শাস্তি দেওয়া যায়, এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কেউ গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও তাকে পিটিয়ে মারা তো দূরের কথা, শারীরিকভাবে আঘাত করাও আইনসম্মত নয়।
বাংলাদেশের ঢাকায় সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জাহেদ একথা বলেন। তাঁর সাফ বার্তা, অপরাধী যত বড়ই হোক না কেন, শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে অরাজকতা তৈরি করে এবং এটি সম্পূর্ণরূপে দণ্ডনীয় অপরাধ। তাঁর সাফ বার্তা, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে তারেক রহমানের সরকার, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছে এই সমস্ত ধরনের ঘটনা নিয়ে। এমন ঘটনার ক্ষেত্রে তারেক সরকার কঠোর হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, দীপু দাস হত্যাকাণ্ড মামলায় বাংলাদেশে অন্যতম অভিযুক্তের এইভাবে এক বছরের জামিনের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার সহ সংশ্লিষ্ট মহল। জানা গিয়েছে, হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে ১৩ এপ্রিল ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দুই হাজার টাকার মুচলেকায় জামিননামা গ্রহণ করে মো. মাসুমের মুক্তির (ছাড়পত্র) আদেশ দেন।