Bangladesh interim govt on Hindu murder। বাংলাদেশে আরও ১ হিন্দুকে পিটিয়ে হত্যা

Spread the love

রাজবাড়িতে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ধর্মের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন কেয়ারটেকার সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, ওই হিন্দু যুবক নাকি আদতে গুন্ডা ছিলেন। করতেন তোলাবাজি। এমনকী তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলাও ছিল বলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের দাবি, ‘সরকার সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানাচ্ছে এবং বিভ্রান্তিকর, উস্কানিমূলক ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ- এই দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যে কোনও অপচেষ্টা সরকার কড়া হাতে দমন করবে।’

ইউনুসদের মুখে আইনের শাসন, বাস্তবে নরকের শাসন

যদিও বাস্তবে ‘আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কার্যত কিছু করছে না বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শেখ হাসিনা সরকার তথা আওয়ামি লিগ সরকার পতনের পরে বাংলাদেশে হিংসা বেড়েছে। অবনতি হয়েছে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতিরও। হিন্দু-সহ একের পর এক সংখ্যালঘু মানুষকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তারইমধ্যে বুধবার রাজবাড়িতে হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডলকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

সেই গণপিটুনির ঘটনার নিন্দা করলেও নোবেলজয়ী ইউনুস সরকারের তরফে জোর দেওয়া হয়েছে মূলত ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর’ দিকে। সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘রাজবাড়ির পাংশা থানর আওতাধীন এলাকায় বুধবার রাতে হওয়া একটি দুঃখজনক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে।’

হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ বাংলাদেশের?

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘পুলিশের তথ্য ও প্রাথমিক তদন্ত থেকে মনে করা হচ্ছে যে ঘটনাটি মোটেই সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। এটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে উদ্ভূত হিংসাত্মক পরিস্থিতির থেকে সৃষ্ট ঘটনা। নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী (অপরাধী) অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট চাঁদা দাবির উদ্দেশ্যে (তোলা আদায় করতে) এলাকায় উপস্থিত হন এবং বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতার সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে প্রাণ হারান। তিনি ইতিপূর্বে ২০২৩ সালে রুজুকৃত হত্যা এবং চাঁদাবাজির (তোলাবাজি) মামলা-সহ একাধিক গুরুতর মামলার আসামি ছিলেন। এসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।’

ইউনুস সরকারের দাবি, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সম্রাটের সহযোগী সেলিমকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি পাইপগান-সহ আটক করেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকার কঠোর নিন্দা জানায়। সরকার সুস্পষ্টভাবে জানাতে চায়, যে কোনও ধরনের আইন-বহির্ভূত কর্মকাণ্ড, গণপিটুনি বা হিংসাত্মক সরকার কোনওভাবেই সমর্থন করে না। এ ঘটনায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’

অপপ্রচার, ভিত্তিহীন- বাংলাদেশ সরকারের দাবি

সেইসঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে বলা হয়েছে, ‘সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, একটি মহল নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসৎ উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। এ ধরনের অপপ্রচার সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *