বাংলাদেশে জামাতে ইসলামির প্রধান শফিকুর রহমানের গলায় আচমকাই ‘সংখ্যালঘু প্রেম’। এই ভালোবাসা আমেরিকার সঙ্গে ‘সমঝোতার’ কারণে, নাকি রাজনৈতিক ভাবে নিজেদের ভাবমূর্তি বদল করতে, তা অবশ্য এখনই বলা কঠিন। তবে সম্প্রতি ভোট প্রচারে গিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ভালোবাসা উচিত। তাঁর কথায়, ‘আমরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে সংখ্যালঘুদের সম্মান না করি, তবে বিদেশের মাটিতে আমাদের ভাইদের কারা ভালোবাসবে?’ উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টে জামাতপন্থী সাংবাদিক এবং মার্কিন কূটনীতিকের কথোপকথন নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, জামাতের অতিকট্টরপন্থী মনোভাব নিয়ে সতর্কবাণী দিয়েছিল আমেরিকা। এদিকে জামাতের সঙ্গে নাতি ‘বন্ধুত্ব’ করার বার্তা দিয়েছিল আমেরিকা। এই আবহে বাংলাদেশের নির্বাচনে ‘ম্যাচ ফিক্সিং’ হয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এই সবের মাঝেই নিজেদের কট্টর ইসলামপন্থী মনোভাব দূর করতে মরিয়া জামাতে ইসলামি। এর জন্য প্রথমবারের মতো এক হিন্দুকেও টিকিট দিয়েছে জামাত। এহেন জামাতের আমির শফিকুর এক হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, ‘হে মুসলমান, তুমি যদি পেট ভরে খাও আর তোমার ঘরের পাশে অন্য ধর্মের একজন অভুক্ত লোক থাকে, তুমি যদি প্রতিবেশী হিসেবে তার হক আদায় না করো, তবে তুমি আমার উম্মত নও।’ এরপর তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহ তখনই কোনও মানুষের ওপর খুশি হন, যখন ওই মানুষটা আল্লাহর জন্য অন্য মানুষকে ভালোবাসে। দল, ধর্ম, পেশা ও সামাজিক অবস্থা ভুলে গিয়ে আমরা আজ থেকে সমস্ত মানবকে ভালোবাসব।’
এদিকে শফিকুর মুখে সংখ্যালঘু প্রেমের কথা বললেও তাঁর দলের নেতারা যে প্রবল হিন্দুবিদ্বেষী, তা প্রকাশ পেয়েছে সম্প্রতি। আফজাল হোসেন নামে হিন্দুবিদ্বেষী জামাত নেতা বরগুনায় এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় বলেছিল, ‘আপনারা কি আল-কোরান চান, না বেদায়াত চান? আল-কোরআন যদি চান, অবশ্যই জামায়াতে ইসলাম সংসদীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করবে। উচ্চ স্বরে তারা সংসদে ধমক দিয়ে বলবে- এই দেশ মুসলমানের দেশ। যেখানে ৮০ পার্সেন্ট লোক মুসলমান, সেখানে কোনও দিন বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না। সংবিধান থাকতে পারে না। বাংলাদেশে কী শাসন থাকবে? আল্লাহর কোরআনের শাসন থাকবে। আজকে চুরি করলে যদি হাত কেটে দেওয়া হয়, আর কি এই এলাকায় চুরি হবে? সেই শাসন আমরা চাই। আপনার চিন্তা নেই ইনশাআল্লাহ। মানুষ বুঝতে পেরেছে ধর্ম কাকে বলে, ন্যায় কাকে বলে, আদর্শ কাকে বলে।’ যদিও এই ভাষণ নিয়ে জামাত প্রার্থী সুলতান আহমেদ বলেন, ‘ভাষণ দেওয়া ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত। আবেগে বলে ফেলেছে। বলার পর আমাদের কিছু করার থাকে না।’
