টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়ের কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্ট যেন পাচ্ছে পাকিস্তান। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারতে খেলতে চায়নি বাংলাদেশ। পাকিস্তান এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন করেছিল। পাকিস্তান আইসিসিকে হুমকি দিয়েছিল যে যদি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয় তবে তারাও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করতে পারে। তবে জয় শাহের নেতৃত্বে আইসিসি অনড় ছিল নিজেদের অবস্থানে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের অনেক প্রাক্তন খেলোয়াড় ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। তিনি ভারতের নাম নিয়ে আইসিসিকে আক্রমণ শানিয়েছেন।
শাহিদ আফ্রিদি বলেছেন যে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে, যখন ভারত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকার করেছিল, তখন আইসিসি ভারতের ম্যাচগুলি একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করেছিল। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসি একই বোঝাপড়া দেখাতে রাজি হয়নি। শহিদ আফ্রিদি এক্স পোস্টে লেখেন, ‘বাংলাদেশ ও আইসিসি ইভেন্টে খেলা প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির এই কাজে আমি খুবই হতাশ। অভিন্ন আচরণ ও ন্যায্যতা বিশ্ব ক্রিকেট শাসনের ভিত্তি। বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও লাখ লাখ সমর্থকদের সম্মান করা উচিত। তাদের সঙ্গে দ্বিচারিতা করা ঠিক নয়। আইসিসির উচিত সম্পর্ক গড়ে তোলা, তা নষ্ট করা নয়।’ এই আফ্রিদি অপারেশন সিঁদুরের পরে ভারতের বিরুদ্ধে ‘বিজয় ব়্যালি’ বের করেছিল বাইকে করে। এই জঙ্গি মানসিকতার আফ্রিদি কাশ্মীর নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিকবার উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছে। এখন বাংলাদেশের জন্য যত না আফ্রিদির হৃদয়ে ফাটল ধরেছে, তার থেকে বেশি ভারত বিরোধিতার সুযোগ পেয়ে তিনি সরব হয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান তথা সেই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। আর এতে বেজায় চটেছে আইসিসি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইসিসি। এমনকী এশিয়া কাপ থেকেও পাকিস্তানকে ব্যান করা হতে পারে বলে জানিয়ে রেখেছে আইসিসি। শুধু তাই নয়, পাকিস্তান যদি টি২০ বিশ্বকাপ না খেলে, তাহলে বিদেশি খেলোয়াড়দের পিএসএলে খেলতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইসিসি নৌ অবজেকশন সার্টিফিকেট দেবে না। এছাড়া সব আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষীয় সিরিজও বন্ধ করে দেওয়া হবে পাকিস্তানের।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন বললেন, ‘আইসিসি এবার টি২০ বিশ্বকাপে খেলানোর জন্য ২২তম দল খুঁজুক।’ তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করেছে আইসিসি। এর মানে কি পাকিস্তানও টি২০ বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করছে? এই প্রশ্নের জবাবে মহসিন নকভি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখন দেশের বাইরে আছেন। তিনি ফিরলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’ তিনি এও জানান, পাকিস্তান বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে নাকি পিসিবির কাছে ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’ পরিকল্পনা তৈরি আছে।