সৌদিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশমন্ত্রী তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করলেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী তথা উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার। ওআইসি-র সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠকটি হয় বলে জানা গিয়েছে। সেই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এরই সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও কথা হয় দুই দেশের মন্ত্রীর। এছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন তৌহিদ এবং ইসহাক।
এদিকে এই মুখোমুখি বৈঠকের আগে জানুয়ারি মাসের শুরুতেই ফোনে দুবার কথা হয়েছিল তৌহিদ এবং ইসহাকের। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চিড় ধরার আবহে আরও কাছাকাছি আসছে ঢাকা এবং ইসলামাবাদ। এই পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক ভাবে ফোনালাপের পর এবার জেদ্দায় মুখোমুখি হলেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীরা। এর আগে ইউনুস জমানায় বাংলাদেশ সফরেও গিয়েছিলেন ইসহাক দার। সেই সময় আবার ইসলামের নামে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘটানো পাক সেনার বর্বর আচরণ ভুলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ইসহাক।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দহরম-মহরম বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানে গিয়ে বাংলাদেশের বায়ুসেনা প্রধান জেএফ১৭ যুদ্ধবিমান কেনার কথাবার্তাও বলে আসে। এই বিষয়টি আবার পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গি সাইফুল্লাহ কাসুরির বেশ ভালো লাগছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা) ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দু’দেশের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে ‘আমরা ভাই’ বলে মন্তব্য করেন সাইফুল্লাহ।

এদিকে বাংলাদেশের বায়ুসেনা প্রধান হাসান মাহমুদ খান সম্প্রতি ইসলামাবাদ সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফর ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। পাক সেনার আইএসপিআরের বিবৃতি অনুযায়ী, পাকিস্তানের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়েছেন বাংলাদেশের বায়ুসেনা প্রধান। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে অদূর ভবিষ্যতেই এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।