দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিবৃতি জারি করে নিন্দা জানালেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি। এদিকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি করা উচিত, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়ার এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিজের বিবৃতিতে কৃষ্ণমূর্তি বলেন, ‘বাংলাদেশে দীপু চন্দ্র দাস নামে একজন হিন্দু ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় আমি মর্মাহত – বিপজ্জনক, অস্থিতিশীল ও অস্থির সময়ে এটি একটি সহিংস ঘটনা। কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে গ্রেফতারি শুরু করেছে। বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত চালিয়ে যেতে হবে এবং দায়ী সকলকে আইনের আওতায় এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায় এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আরও সহিংসতা থেকে রক্ষা করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে। সকল বাংলাদেশীর স্বার্থে, এই অস্থিরতার অবসান ঘটাতে হবে এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে।’
বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনির ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। উল্লেখ্য, ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারা হয় ময়মনসিংহে। ঘটনায় মৃতের নাম দীপু চন্দ্র দাস। ঘটনাটি ঘটেছে ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায়। মৃত দীপু তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানায় শ্রমিক ছিলেন। সেই কারখানাতেই নাকি পিটিয়ে খুন করা হয় দীপুকে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দীপুর মৃতদেহ এরপর ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়েতে নিয়ে যায়। সেখানে রাস্তার পাশে তাঁর মৃতদেহ ফেলে রেখে তাতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই ঘটনার জেরে রাস্তা দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকে। এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে অনেকক্ষণ পরে যায়। বাংলাদেশে ‘মব সংস্কৃতি’ ক্রমেই আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এছাড়া সেই দেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারও থামছে না। ময়মনসিংহের এই ঘটনা তারই উদাহরণ।
