মুর্শিদাবাদে ফের ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটল। রিপোর্ট অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় কলকাতা-লালগোলা ধনধান্য এক্সপ্রেসকে লক্ষ্য করে অনেকগুলো পাথর ছোড়া হয়। বেলডাঙা স্টেশনে ট্রেন ঢোকার ঠিক আগে এই পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এর জেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। এদিকে তদন্ত শুর করেছে পুলিশ। রাজ্যে ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একাধিক সময় বন্দে ভারত সহ দূরপাল্লার ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, লালগোলাগামী ট্রেনটির এসি কামরা লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়েছিল। ট্রেনটি যখন রবিবার রাতে বেলডাঙা স্টেশনের কাছে চলে এসেছে, তখন ডানদিক থেকে এই পাথর ছোড়া হয়। এই ঘটনা প্রসঙ্গে ট্রেনের যাত্রীদের অভিযোগ, পাথরের আঘাতে কামরার কাচের ক্ষতি হয়। তবে যাত্রীদের মধ্যে কেউ আহত হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। পরে ট্রেনটি স্টেশনে এসে দাঁড়ালে বহরমপুর কোর্ট স্টেশনের আরপিএফ-কে বিষয়টি জানানো হয়। পরে আরপিএফ রেললাইন ধরে টহল দেয় আশেপাশের এলাকা।
এর আগে শামশেরগঞ্জ এবং বেলডাঙায় হিংসার সময় দুষ্কৃতীরা রেলের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি করেছিল। বেলডাঙা হিংসার সময় সেই এলাকায় ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়েছিল। রেল অবরোধ করা হয়েছিল। ভাঙচুর করা হয় রেলের লেভেল ক্রসিংয়ে। বেলডাঙা স্টেশনের সিগন্যাল পোস্ট এবং রেলগেটের বুম ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এই আবহে কৃষ্ণনগর-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল পূর্ব রেল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে র্ব রেলে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে ১৫০টি। পূর্ব রেলের অধীনে সবথেকে উদ্বেগজনক এবং ভয়াবহ জেলা হিসেবে মালদাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত, রেল আইন, ১৯৮৯-এর ১৫২ নং ধারা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর বা কোনও বস্তু ছোড়ে, তাহলে তাকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হতে পারে। এদিকে উদ্দেশ্যহীন ভাবে বা ভুল বশত ট্রেনে পাথর বা কোবও বস্তু ছোড়া হলে এক বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে। তা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে ১৬৯৮টি চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। মোট ৬৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয় তাতে।
