বীরভূমের রাজনীতিতে একদা বেতাজ বাদশাহ ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস অনুব্রত মণ্ডল। তবে পাচারকাণ্ডে জেল খেটে আসার পর থেকে অনুব্রতর সেই দাপট যেন ততটা প্রবল নয়। তবে অনুব্রত মণ্ডলের সেই প্রভাব কতটা বজায় রয়েছে, তার পরীক্ষা যেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই কেষ্টর বীরভূমে দাঁড়িয়েই ‘তৃণমূলের গুন্ডাদের’ পালটা হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ এক নির্বাচনী জনসভায় বিজেপি নেতা বলেন, ‘তৃণমূলের গুন্ডারা যেন ২৩ এপ্রিল ঘরে বসে থাকেন, না হলে ৫ মে খুঁজে খুঁজে সকলকে জেলে ভরব।’
ভোট পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে এনে আজ অমিত শাহ বলেন, ‘২০২১ সালের ভোটের পর এখানে আমাদের কর্মীদের উপর অনেক অত্যাচার করা হয়েছে। আপনারা মমতার সরকারকে টাটা-বাই করে দিন। কাটমানি, সিন্ডিকেটওয়ালাদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করার কাজ আমরা করব। এই রাজ্যে ৪ মে-র পর ডবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হবে। রাজ্যে বিকাশের নতুন যুগ শুরু হবে। আপনারা ভয়ের জবাব ভরসায় দেবে। বীরভূমবাসীকে বলছি, আপনারা মেশিনে পদ্মের চিহ্ন খুঁজে নিন। তৃণমূলের গুন্ডাদের আমরা খুঁজে নেব।’
দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলকে তোপ দেগে শাহ বলেন, ‘জলজীবন মিশন-এর কোটি কোটি টাকা কোথায় গেল? তৃণমূলের গুন্ডারা সেই টাকা খেয়ে নিয়েছে। ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি নিয়ে দুর্নীতি কে করল? পুরনিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি, মনরেগা দুর্নীতি, প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার দুর্নীতি, তৃণমূলের সময় শুধু দূর্নীতিই হয়েছে। এরা বাংলার সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে পারে না। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মোদীজি শান্তিনিকেতনকে ইউনেস্কো-র স্বীকৃতি এনে দিয়েছেন। বাংলা ভাষাকে শাস্ত্রীয় ভাষা বানানোর কাজ করেছেন মোদীজি।’

এদিকে আজ মহিলা সুরক্ষা নিয়ে মমতাকে তোপ দাগেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা হলেও বাংলার মা-বোনেদের তিনি সুরক্ষা দিতে পারেন না। রাতে কেন কেউ বাইরে বেরিয়েছেন, তা জিজ্ঞাসা করেন। তবে আমরা ক্ষমতায় এলে এমন বাংলা তৈরি করব যেখানে রাত ১টাতেও মেয়েরা স্কুটিতে বেরোতে পারবে। কোনও আরজি কর বা দুর্গাপুর হবে না। মেয়েরা সর্বত্র সুরক্ষিত থাকবে।’ এদিকে অনুপ্রবেশ এবং ইউসিসি নিয়েও আজ মুখ খোলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে পারবে না। আমরা ক্ষমতায় এলে ৮ মে-র পরে খুঁজে খুঁজে অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বার করে দেব। আমরা ক্ষমতায় এলে ইউসিসি চালু করব। যাঁরা চার বার বিয়ে করেন, সেটা বন্ধ হয়ে যাবে।’