সাম্প্রতিক সময়ে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের তরফ থেকে চট্টগ্রামে ভিসা কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ আবার ভারতের দিল্লি, আগরতলা এবং শিলিগুড়িতে অবস্থিত ভিসা সেন্টারগুলি বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়ত নাকি কমে গিয়েছে ৮৫ শতাংশ।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত তিনদিনে মাত্র ৫৩৯২ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পারাপার করেছেন। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তা ৮৫ শতাংশ কম বলে দাবি করা হয়েছে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে। দাবি করা হয়, একটা সময় দৈনিক ৭ থেকে ৮ হাজার যাত্রী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পারাপার করত। তবে গত শনিবার ভারতে এসেছে ৮৪৭ জন, বাংলাদেশে গিয়েছে ৭৭৯ জন, রবিবার ভারতে এসেছে ৯৭৭ জন, বাংলাদেশে গেছে ৮৮০ জন। সোমবার ভারতে এসেছে ১১৩৯ জন, বাংলাদেশে ফিরেছে ৭৭০ জন।
এদিকে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের হাইকমিশনে ভিসার আবেদনকারীদের ৯৫ শতাংশকেই ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। এখন আবার নতুন নিয়ম করেছে ভারতীয় হাইকমিশন। এই আবহে ভিসা আবেদনকারীকে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল জানাতে হবে আবেদনের সঙ্গে। সেটি স্ক্যান করে দেখা হবে সংশ্লিষ্ট ভিসা আবেদনকারী ভারত বিরোধী কি না।
এদিকে বহু ক্ষেত্রে ভিসার বিধি লঙ্ঘন করলে বাংলাদেশিদের পাসপোর্টে ‘রিফিউজ সিল’ মেরে দিচ্ছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তারা। এর জেরে পরবর্তীতে আর ভারতীয় ভিসা পাবেন না সেই সব পাসপোর্টধারী বাংলাদেশিরা। এদিকে ভিসা পেতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে দালাল ধরছে বাংলাদেশিরা। এছাড়া ভিসা পেতে ভারতীয় হাইকমিশনের ফি ১৫০০ টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়)। আবার বাংলাদেশ সরকারকে ভ্রমণ কর বাবদ দিতে হয় ১০৬০ টাকা।

এদিকে ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশি হিন্দু যুবক দীপুকে নৃশংস খুনের প্রতিবাদে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের। পুলিশের বসানো ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের খুব কাছে চলে আসে বিক্ষোভকারীকে। এই আবহে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ওপরে। এদিকে কলকাতাতেও বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখনো হয় গতকাল। সেই প্রতিবাদ ঠেকাতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে। তাতে রক্ত ঝরে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর। এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর দিল্লি, শিলিগুড়ি এবং আগরতলায় যাবতীয় ভিসা পরিষেবা স্থগিত করার ঘোষণা করে বাংলাদেশের হাইকমিশন। এই আবহে ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশনারকে ফের তলব করা হয় সাউথ ব্লকে বিদেশ মন্ত্রকে। জানা গিয়েছে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ঘিরে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করা হয় দিল্লির তরফে।