Bread Price rise। কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞার জেরে সংকটে রাজ্যের বেকারি শিল্প

Spread the love

কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশিকার জেরে রাজ্যের বেকারি শিল্প বড় সংকটের মুখে পড়েছে। শিল্পে ব্যবহারের জন্য খোলা পাত্র, জ্যারিকেন বা ড্রামে ডিজেল বিক্রির ওপর তিন মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৩ হাজার বেকারি ও বিস্কুট কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পমহলের আশঙ্কা, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে পাউরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক একটি নির্দেশিকা জারি করে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি তেল সংস্থাকে জানায়, পেট্রোল পাম্প থেকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনেই ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহ করা যাবে। খোলা পাত্র, জ্যারিকেন বা ড্রামে জ্বালানি বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। তবে জলপথে পরিবহণের ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

কলকাতায় ইন্ডিয়ান অয়েলের এক মুখপাত্র জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ দেখা গিয়েছে, তবুও এই নির্দেশিকা কবে প্রত্যাহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। ফলে শিল্পমহলে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বেকারি অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, রাজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ বেকারি উৎপাদন অর্ধেক কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। গ্রামীণ এলাকার বহু ছোট বেকারি আবার সম্পূর্ণভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ, অধিকাংশ বেকারি ডিজেলচালিত চুল্লি ও যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

এই শিল্পের সঙ্গে প্রায় ২৫ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পাউরুটি ও বেকারি পণ্য সরবরাহ করা হয়। উৎপাদন কমে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে বেশি দামে পাউরুটি বিক্রির অভিযোগ আসতে শুরু করেছে।

এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ বেকারি অ্যাসোসিয়েশন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের কাছে জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে। গত সোমবার পাঠানো চিঠিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে পাউরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্যের দাম বৃদ্ধি করা ছাড়া শিল্পের সামনে আর কোনও বিকল্প থাকবে না। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং বেকারি শিল্পকে বাঁচাতে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *