ভারতের বিএসএফ জওয়ানকে সম্প্রতি আটক করা হয়েছিল বাংলাদেশে। সেই আটক জওয়ানকে পতাকা বৈঠক করে ফিরিয়ে দিল বাংলাদেশের বিজিবি। রিপোর্ট অনুযায়ী, কোচবিহার-লালমনিরহাট সীমান্তে গরু পাচারকারীদের ধাওয়া করেছিলেন বিএসএফ জওয়ান। ২১ ডিসেম্বর ভোরে ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা ভারতীয় জওয়ানকে ঘিরে ফেলে নিয়ে যায় পড়শি দেশের ভূখণ্ডে। পরে বিজিবি তাঁকে আটক করে। পাটগ্রামের দহগ্রাম ইউনিয়ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল নাগাদ তিনবিঘা করিডর এলাকায় ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয় বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে। সেই বৈঠকের পর বিএসএফ জওয়ানকে ভারতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে আটক হওয়া সেই বিএসএফ জওয়ানের নাম বেদ প্রকাশ। তিনি কোচবিহারে বিএসএফ-র ১৭৪ ব্যাটালিয়নের অর্জুন ক্যাম্পে কর্মরত। আটক হওয়া বিএসএফ সদস্যের কাছ থেকে একটি শটগান, দুটি গুলি, একটি ওয়্যারলেস সেট এবং একটি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছিল বিজিবি। পরে ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম আলি দিন এবং ভারতের ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের তরফ থেকে ভাইস ক্যাপ্টেন বিজয় প্রকাশ শুল্কা বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর বাজেয়াপ্ত করা অস্ত্র সমেত বেদ প্রকাশকে ভারতকে হস্তান্তর করা হয়।
প্রসঙ্গত, এর আগে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক জায়গায় বিএসএফকে কাঁটাতারের বেড়া দিতে বাধা দিয়েছে বিজিবি। এই নিয়ে বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে একাধিক জায়গায় সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ অগস্টের পর থেকে। এর জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়ে এর আগেও কথা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়েছে জায়গায় জায়গায়। এছাড়া ‘সীমান্ত হত্যা’ নিয়ে বাংলাদেশের অনেক অভিযোগ। যদিও পাচারকারীকে রুখতে ব্যর্থ বিজিবি। এই আবহে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা পাচারকারীর ওপর বিএসএফ গুলি চালালে তাতেও আপত্তি বাংলাদেশের। এদিকে অনেক জায়গাতেই অভিযোগ উঠেছে, টাকা নিয়ে পাচারকারীদের ভারতে অনুপ্রবেশে সাহায্য করে বিজিবি। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে ৪ হাজার ৯৬.৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে ভারতের। এর মধ্যে থেকে ৩ হাজার ২৩৯.৯২ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার আছে। অর্থাৎ, মোট সীমান্তের ৭৯.০৮ শতাংশ এলাকায় আছে কাঁটাতার বেড়া।
