মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক। তৃণমূল সুপ্রিমো নিজের ভাষণের মাধ্যমে উস্কানি দিয়ে থাকতে পারেন বলে মত নির্বাচন কমিশনের। এই আবহে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে জনসভায় মমতা বলেছিলেন, ‘ভোটের সময় কেউ ভয় দেখাতে আসলে ঘরে যা আছে, তা নিয়ে বের হবেন।’ এই মন্তব্যের জেরে অশান্তি ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
মমতার ‘উস্কানিমূলক’ ভিডিয়োর ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এই আবহে সেই ভিডিয়োটি খতিয়ে দেখে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে দ্রুত রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে দিল্লিতে। উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয় ভূমিকা এবং প্রশাসনিক পদে রদবদল ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির ওপর খাপ্পা মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিজেপির কথা মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কমিশন। এই আবহে নির্বাচন কমিশনকে ধারাবাহিক ভাবে তোপ দেগে চলেছেন মমতা। এই আবহে উত্তরবঙ্গের সেই জনসভায় তৃণমূল সুপ্রিমো বলেছিলেন, ‘ভোটের দিন সকালে বুথ পাহারা দিন। যাতে বাইরে থেকে লোক এসে ছাপ্পা না দিতে পারে। যদি কেউ ভয় দেখাতে আসে যা আছে, তাই নিএই বেরিয়ে যাবেন। রান্না তো আপনারা করেনই, আমি বেশ বলব না।’
এদিকে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। এই আবহে সংসদের দুই কক্ষেই নোটিস দিয়েছে তৃণমূল। জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের প্রস্তাবের পক্ষে সারা দেশের ১৯৩ জন সাংসদের সই সংগ্রহ করেছে রাজ্যের শাসক দল। অবশ্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। সেই সংখ্যা তৃণমূলের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। তবে রাজ্যের রাজনীতিতে তাদের এই বিরোধিতা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
