Firhad Hakim Latest Update। পদত্যাগ ঘিরে জল্পনা! এরই মাঝে ফিরহাদকে চা খাওয়াতে চাইলেন শুভেন্দু

Spread the love

গত এক মাসে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একের পর এক নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। সেই আবহেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কলকাতার মেয়র ও তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। একদিকে তাঁর সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে জোর জল্পনা, অন্যদিকে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, ফিরহাদের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বুধবার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফিরহাদ হাকিম নাকি মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তবে পরে সেই দাবি খারিজ হয়ে যায়। জানা যায়, এখনও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার নবান্নে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সূত্রের দাবি, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁকে ‘মেয়র সাহেব’ বলে সম্বোধন করা হয় এবং বিধায়কদের আসন থেকে সরিয়ে মন্ত্রীদের পাশে বসার ব্যবস্থা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ একাধিক মন্ত্রীও ফিরহাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন।

শুধু উপস্থিতিই নয়, বৈঠকে বক্তব্য রাখার সুযোগও পান ফিরহাদ। তিনি হাওড়ায় গঙ্গার তলায় টানেল নির্মাণ এবং মেট্রোপলিটন-নিউটাউন ফ্লাইওভার তৈরির স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন মুখ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিষয়গুলি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা যায়।

একইসঙ্গে কলকাতার বেআইনি নির্মাণ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। যেসব নির্মাণে ত্রুটি বা বিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলি নিয়ম মেনে ‘রেগুলারাইজড’ করার বিষয়েও মত প্রকাশ করেন বলে সূত্রের দাবি। নিউটাউনকে কেন্দ্র করে ফিরহাদের উন্নয়নমূলক ভাবনাও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নাকি ফিরহাদকে আলাদা করে চা খাওয়ার আমন্ত্রণও জানান। তবে অন্য কাজের কথা বলে সেখান থেকে বেরিয়ে যান ফিরহাদ। তিনি সরাসরি কলকাতা পুরনিগমে চলে যান। আর এই ঘটনাই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সূত্রের দাবি, নবান্ন থেকে কালীঘাটে না গিয়ে সরাসরি পুরসভায় চলে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি ফোনে ফিরহাদের সঙ্গে কথাও বলেন বলে জানা গেছে।

তৃণমূল সূত্রে দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষভাবে অসন্তুষ্ট হয়েছেন এই কারণে যে, তাঁর নির্দেশ উপেক্ষা করেই ফিরহাদ নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করেননি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের মোট ২৮ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ফিরহাদ হাকিম ছাড়াও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের মতো নেতারাও ছিলেন। ফলে এই বৈঠক এবং তাতে তৃণমূলের নেতাদের অংশগ্রহণ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *