Gilgo Beach serial killings। বস্তায় মোড়ানো খণ্ডবিখণ্ড দেহ!

Spread the love

Gilgo Beach serial killings: লং আইল্যান্ডের শান্ত শহর ম্যাসাপেকুয়া পার্কের বাসিন্দা রেক্স হিউয়ারম্যান বাইরে থেকে ছিলেন আদ্যোপান্ত একজন সাধারণ মানুষ- বয়স ৬২, পেশায় স্থপতি, সংসারী বাবা। কিন্তু বুধবার নিউইয়র্কের সাফোক কাউন্টি আদালতে সেই মুখোশ চিরতরে খুলে গেল। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি সাতজন মহিলাকে খুনের দায় স্বীকার করলেন এবং জানালেন, আসলে তিনি মেরেছেন আটজনকে- ১৯৯৩ সাল থেকে শুরু করে ২০১০ সাল, প্রায় ১৭ বছর ধরে।

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গিলগো বিচ কিলিংস’ নামে পরিচিত এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বছরের পর বছর তাড়া করে বেরিয়েছে। ২০১০ সালে লং আইল্যান্ডের সাউথ শোরের ঝোপেঝাড়ে একের পর এক মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া যায়-সবার দেহ বার্লাপের বস্তায় মোড়ানো, গলা টিপে হত্যা করা, কেউ কেউ খণ্ডিত। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই ছিলেন যৌনকর্মী এবং তরুণ মা, যারা সংসারের টানে বাড়তি রোজগারের পথ বেছে নিয়েছিলেন। হিউয়ারম্যান বার্নার ফোন ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং খুন করে দেহ দূরে নির্জন স্থানে ফেলে আসতেন। বুধবার ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার ম্যাসাপেকুয়া পার্কের বাসিন্দা হিউয়ারম্যান আদালতে ব্যাঙ্গাত্মক হাসি হেসে বারবার বলছিলেন, তিনি শ্বাসরোধ করে মহিলাদের হত্যা করেছেন। সেই সময় নিহতদের আত্মীয়রা আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্তের মুখে সেই কথা শুনে তাদের মধ্যে কেউ কেউ আঁতকে ওঠেন।

এই মামলার তদন্ত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আটকে ছিল। ২০২২ সালে নতুনভাবে গঠিত গিলগো বিচ টাস্ক ফোর্স একটি প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ থেকে হিউয়ারম্যানের পিকআপ ট্রাক শনাক্ত করে। এরপর শুরু হয় গোপন নজরদারি। একদিন ম্যানহাটনে লাঞ্চ সেরে হিউয়ারম্যান পিৎজার উচ্ছিষ্ট একটি রাস্তার ডাস্টবিনে ফেলে দেন। গোয়েন্দারা সেটি তুলে ক্রাইম ল্যাবে পাঠান। পিৎজার ক্রাস্টের ডিএনএ মিলে যায় নিহতদের শরীরে বাঁধা বার্লাপে পাওয়া একটি পুরুষের চুলের সঙ্গে। এরপর জুলাই ২০২৩ সালে হিউয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ির বেসমেন্টে পাওয়া যায় একটি গোপন ভল্ট, যেখানে মজুত ছিল ২৭৯টি অস্ত্র। এছাড়াও কম্পিউটারে পাওয়া গেছে হত্যার বিস্তারিত ‘ব্লুপ্রিন্ট’- চেকলিস্ট করা নির্দেশিকা, কীভাবে শব্দ কমাতে হবে, দেহ পরিষ্কার করতে হবে, প্রমাণ নষ্ট করতে হবে। একই কম্পিউটারে ছিল গিলগো বিচ তদন্তের খবর বারবার সার্চ করার ইতিহাস, নিজের অপরাধের খোঁজ সে নিজেই রাখত।

বুধবারের শুনানিতে সাফোক কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি রে টিয়ার্নি বলেন, ‘সে আমাদের মাঝে একজন স্বাভাবিক শহরতলীর বাবার ভান করে বেড়িয়েছে। অথচ সবসময় নির্দোষ মহিলাদের খুনের পরিকল্পনা করছিল। সে ভেবেছিল তাদের খুন করে চিরতরে নীরব করে দিতে পারবে। কিন্তু সে ভুল ছিল।’ আগামী ১৭ জুন হিউয়ারম্যানের সাজা ঘোষণা হবে। তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, প্যারোলের কোনও সুযোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *