Auto Gas Price Hike: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার জেরে বিশ্বজুড়ে গ্যাসের সংকট চরমে ওঠেছে । তার প্রভাব পড়েছে বাংলাতেও। লাগাতার এলপিজি-র দামবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে অটোর ভাড়ার উপর। আর তারপর থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কলকাতার বাস পরিষেবা। বাস অপারেটররা জানাচ্ছেন, স্বল্প-দূরত্বের যাত্রীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তবে, এই বাসের চাহিদা ও পরিষেবার মধ্যে বড় একটি সমস্যা সামনে এনেছে। যার ফলে বাসগুলিতে অতিরিক্ত ভিড় হচ্ছে এবং এই পরিষেবা টেকসই হবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ট্রান্সপোর্ট অপারেটররা জানিয়েছেন, শহর জুড়ে অটো রুটগুলিতে ২-৫ টাকা ভাড়া বৃদ্ধির ফলে বহু যাত্রী-বিশেষ করে যারা ৩-৪ কিলোমিটারের মতো স্বল্প দূরত্বে যাতায়াত করেন, আবার বাসের ঝুঁকছেন, যা গণপরিবহনের অন্যতম সাশ্রয়ী মাধ্যম। কিন্তু এই যাত্রী বৃদ্ধি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কমিশনের চাহিদার কারণে বাসের সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসের সেক্রেটারি টিটু সাহা জানান, গত কয়েকদিনে আমরা যাত্রীর সংখ্যার বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছি, বিশেষ করে স্বল্প দূরত্বের রুটগুলোতে। যে মানুষগুলো আগে সুবিধার জন্য অটো পছন্দ করতেন, তারা এখন খরচের পার্থক্যের কারণে বাস বেছে নিচ্ছেন।’ এদিকে, শহরের অটো চালকরা ভাড়া সংশোধনের পর যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও এই ভাড়া বৃদ্ধিকে প্রয়োজনীয় বলে যুক্তি দিয়েছেন। কারণ, জ্বালানির দাম ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়েছে।
এসপ্ল্যানেড-লোহাপুল রুটের অটোচালক আব্দুল রহমান বলেন, ‘ভাড়া সংশোধন করা ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ, কিছু যাত্রী বাসে যাতায়াত শুরু করেছেন, কিন্তু বাস পরিষেবায় অতিরিক্ত ভিড় ও অনির্ভরযোগ্য থাকলে অনেকেই অটোতে ফিরে আসবেন।’ তবে, অটোর চড়া ভাড়া এবং বাসে ভিড়-উভয়ের কারণেই যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। এই প্রসঙ্গে কলেজ ছাত্রী সায়ানি সিকদার বলেন, ‘আমি আগে অল্প দূরত্বের জন্য অটো নিতাম, কিন্তু এখন ভাড়া অনেক বেশি। তাই বাসে যাতায়াত শুরু করেছি, কিন্তু বাসগুলো এত ভিড়ে ঠাসা থাকে যে ব্যস্ত সময়ে ওঠা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।’ বিমাকর্মী সন্দীপ ধারাও বলেন, ‘বাস নিঃসন্দেহে সস্তা, কিন্তু একটি সমস্যা রয়েছে। যখন অনেকক্ষণ পর একটি বাস আসে, সঙ্গে সঙ্গে সেটি ভর্তি হয়ে যায়।’ অপারেটররাও স্বীকার করেছেন যে চাহিদার এই আকস্মিক বৃদ্ধি সামলাতে বাস পরিষেবা হিমশিম খাচ্ছে। বাস অপারেটরদের একটি সিন্ডিকেটের সেক্রেটারি তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু রাস্তায় বাসের সংখ্যা সেই অনুপাতে বাড়েনি। এর ফলে অতিরিক্ত ভিড় হচ্ছে, বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন যে এই প্রবণতা চলতে থাকলে মানুষ আবার অটোতে ফিরে যেতে পারে। ফুটবোর্ডে ঝুলে বা ঠাসাঠাসি করে বাসে যেতে কেউ চায় না।’
