‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ নিয়ে শেখ হাসিনার আশঙ্কাই কি সত্যি হচ্ছিল? কলকাতা থেকে মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইকের গ্রেফতারির পরে সেই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে মিজোরাম দিয়ে মায়ানমার গিয়ে ভারত-বিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। ইউরোপ থেকে বেআইনিভাবে ড্রোন আমদানি করেছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। আর সেই গ্রেফতারির পরে বাংলাদেশের পুরনো একটি মন্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালে হাসিনা দাবি করেছিলেন যে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একাংশ নিয়ে একটি নতুন ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে।
আসলে সম্প্রতি ভ্যানডাইককে গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, নিজেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অ্যানালিস্ট হিসেবে দাবি করে আসে ম্যাথু। একাধারে ‘যুদ্ধের রিপোর্টার’, ‘ডকুমেন্টারি পরিচালক’-ও বটে। একাধিক দেশে ‘ফ্রিল্যান্সিং’ করে। এই ম্যাথু আদতে ‘ভাড়াটে স্বাধীনতাকামী’। লিবিয়া থেকে শুরু করে ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেনে ‘কাজ’ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিজেই দাবি করেছে যে অন্য দেশে ‘কোভার্ট অপারেশন’ বা গোপন অভিযান চলে। ২০২৪ সালে মার্কিন সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে নিজেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিল। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় গদ্দাফির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিল। ২০১১ সালে ধরা পড়ে ছয় মাস জেলেও ছিল।

আমেরিকার সরকারের দিকে ঝুঁকে থাকে ম্যাথু- রিপোর্ট
শুধু তাই নয়, রিপোর্ট অনুযায়ী, সনস অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি মার্সিনারি সংস্থা চালিয়েছে ম্যাথু। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে এই সংস্থার মাধ্যমে ‘বিদ্রোহীদের’ প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। ম্যাথু দাবি করে যে তার সংস্থার সঙ্গে মার্কিন সরকারের কোনও যোগ নেই। তবে উল্লেখ্য বিষয়, সবক্ষেত্রেই মার্কিন সরকার যেদিকে ঝুঁকে থাকে, ম্যাথুও সেই পক্ষের হয়েই ‘কাজ’ করে বলে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।