রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীরি মহিলাদের নিয়ে নাটক করতে এসেছিল পাকিস্তান। মুখে ঝামা ঘষে ইসলামাবাদকে সবক শেখাল ভারত। নয়াদিল্লিকে অস্বস্তিতে ফেলতে গিয়ে পুরো বিশ্বের কাছে নিজেদেরই নোংরামির প্যান্ডোরা বক্স খুলে ফেলল পাকিস্তান। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পারভাথানেনি হরিশ স্মরণ করিয়ে দিলেন যে কীভাবে পাকিস্তানের সেনাই চার লাখ মহিলাকে ধর্ষণ করেছিল।
রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি কটাক্ষ করেন, দুর্ভাগ্যবশত প্রতি বছর ভারতকে নিয়ে পাকিস্তানের বিভ্রান্তিকর এবং ফালতু কথা শুনতে হয়। বিশেষত জম্মু ও কাশ্মীরকে সেইসব মন্তব্য করে থাকে পাকিস্তান। যা পুরোপুরি ভারতের অখণ্ড অংশ। কিন্তু তা নিয়ে আকাশ-কুসুম স্বপ্ন দেখে পাকিস্তান। তাঁর কথায়, ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের রেকর্ড নিষ্কলঙ্ক এবং অক্ষত।’
তারপরই পাকিস্তানকে আরও কড়া ভাষায় নিশানা করে ভারতীয় কূটনীতিবিদ বলেন, ‘যে দেশ নিজের জনগণের উপর বোমাবর্ষণ করে, লাগাতার গণহত্যা চালায়, তারা স্রেফ ভুল তথ্য এবং অতিরঞ্জনের মাধ্যমে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে পারে। এই দেশটি ১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চলাইট চালিয়েছিল এবং নিজস্ব সেনার দ্বারা ৪০০,০০০ নারীর উপর গণহত্যামূলক গণধর্ষণ চালিয়েছিল।’ আর ভারতীয় কূটনীতিবিদ সেই মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের নাটকের প্রেক্ষিতে। মহিলাদের শান্তি ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের কূটনীতিবিদ সাইমা সালেম অভিযোগ করেন, কাশ্মীরি মহিলারা ‘কষ্টের’ মধ্যে আছেন। সেই রেশ ধরে নিজের দেশের ইতিহাস এবং বর্তমানের নোংরামির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ করেন রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি।

অপারেশন সার্চলাইট কী? তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (অধুনা পাকিস্তান) অত্যাচার চালিয়েছিল তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান (অধুনা পাকিস্তান)। পাকিস্তানি সেনা হত্যা করেছিল তিন লাখের বেশি বাঙালিকে। শুধু তাই নয়, প্রায় চার লাখ মহিলাকে পাকিস্তানি সেনার ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ভারতের সাহায্যে জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশের।