India on Pak Airstrike on Kabul Hospital। কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার তীব্র নিন্দায় ভারত

Spread the love

আফগানিস্তানের কাবুলের একটি হাসপাতালে হামলায় কয়েকশো রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় এবার বিবৃতি জারি করল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়েছে দিল্লি। এই নিয়ে ভারত বলেছে, ‘পাকিস্তানের এই জঘন্য আগ্রাসন আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের ওপর নির্লজ্জ আক্রমণ এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি। এটি পাকিস্তানের বেপরোয়া আচরণের ধারাবাহিক প্যাটার্ন। সীমানা ছাড়িয়ে ক্রমবর্ধমান মরিয়া সহিংসতার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এটা। পাকিস্তান এই গণহত্যাকে সামরিক অভিযান হিসাবে সাজানোর চেষ্টা করছে।’

ল্লেখ্য, সোমবার গভীর রাতে আফগানিস্তানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। কাবুলের এক হাসপাতালে আছড়ে পড়ে পাকিস্তানি মিসাইল। এর জেরে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪০০ জনের। জখম আরও কমপক্ষে ২৫০ জন। তালিবান সরকারের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পাকিস্তানি হামলায় হাসপাতালের একটা বড় অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছে তালিবান সরকার। সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্স হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি আফগানিস্তানের সীমান্ত লঙ্ঘন। তিনি বলেন, নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই মাদকাসক্তির কারণে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি অবশ্য হাসপাতালে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘কাবুলের কোনও হাসপাতালে হামলা করা হয়নি। যেখানে অভিযান চালানো হয়েছে, সেখানে গোলাবারুদ মজুদ রাখা হত। সন্ত্রাসবাদীদের যেখান থেকে সাহায্য করা হত, সেই জায়গাগুলিকে নিশানা করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য, এই দফায় টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই সংঘাত।

প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর হতে না হতেই আফগানিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আত্মঘাতী হামলার জবাবে এই এয়ারস্ট্রাইকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এদিকে ২২ তারিখের পাক হামলার জবাবে আফগানিস্তানও পালটা হামলা চালায় পাকিস্তানের ওপরে।

পরে গত ১ মার্চ পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে নূর খান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল তালিবান। ড্রোন দিয়ে পাক বায়ুসেনা ঘাঁটিতে সেই হামলা চালানো হয়েছিল। নূর খান ছাড়াও বালোচিস্তানের কোয়েট্টায় অবস্থিত পাক সেনার ১২তম ডিভিশনের সদর দফতরে হামলা চালানোর দাবি করেছে তালিবান। এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ায় মহমন্দ এজেন্সির খাওয়াজি ক্যাম্পেও হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তান। এছাড়াও পাকিস্তানের আরও একাধিক সামরিক স্থাপনা এবং কমান্ড সেন্টারে আফগানিস্তানের ড্রোন আছড়ে পড়েছে বলে দাবি করে তালিবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর আগে আফগানিস্তানের জালালাবাদে একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করে তালিবান। সেই ঘটনায় এক পাক পাইলটকে আটক করার দাবি জানিয়েছিল তালিবান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *