কলকাতা থেকে সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়েছিল মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইককে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মিজোরাম দিয়ে মায়ানমার গিয়ে ভারতবিরোধী জঙ্গিদের সে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল এবং ইউরোপ থেকে বেআইনি ভাবে ড্রোন আমদানি করেছিল। এই নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করা হলে আপাতত ‘নীরব’ তারা। রিপোর্ট অনুযায়ী, ম্যাথুর গ্রেফতারির বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত বলে জানিয়েছে ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
তবে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন দূতাবাসের কোনও আধিকারিক। ম্যাথু ভ্যানডাইকের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র শুধুমাত্র বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতির (ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ মামলায় ম্যাথু ভ্যানডাইকের গ্রেফতারি) বিষয়ে আমরা অবগত। তবে গোপনীয়তা রক্ষার কারণে আমরা এই মার্কিন নাগরিক সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’
উল্লেখ্য, কলকাতা বিমানবন্দরে ধরা হয়েছিল ম্যাথু ভ্যানডাইককে। কিন্তু কে এই ম্যাথু ভ্যানডাইক। নিজেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অ্যানালিস্ট হিসেবে দাবি করে ম্যাথু। এছাড়াও সে একাধারে ‘যুদ্ধের রিপোর্টার’, ডকুমেন্টারি পরিচালকও বটে। একাধিক দেশে সে ‘ফ্রিলান্সিং’ করে। এই ম্যাথু আদতে ‘ভাড়াটে স্বাধীনতাকামী’। লিবিয়া থেকে শুরু করে ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেনে ‘কাজ’ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। নিজেই সে দাবি করেছে, অন্য দেশে তার ‘কোভার্ট অপারেশন’ বা গোপন অভিযান চলে। ২০২৪ সালে মার্কিন সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে নিজেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিল ম্যাথু। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় গাদ্দাফির বিরুদ্ধে লড়াইতে নেমেছিল ম্যাথু। ২০১১ সালে ধরা পড়ে ৬ মাস জেলেও ছিল সে। সনস অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি মার্সিনারি সংস্থা চালায় ম্যাথু। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে এই সংস্থার মাধ্যমে ‘বিদ্রোহীদের’ প্রশিক্ষণ দেয় ম্যাথু। ভ্যানডাইক দাবি করে, তার সংস্থার সঙ্গে আমেরিকার সরকারের কোনও যোগ নেই। তবে উল্লেখ্য বিষয়, সব ক্ষেত্রেই মার্কিন সরকার যেদিকে ঝুঁকে থাকে, ম্যাথু ভ্যানডাইকও সেই পক্ষের হয়েই ‘কাজ’ করে।

এদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র ১৮ নং ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের ৩ জনকে লখনউ এবং ৩ জনকে দিল্লি বিমানবন্দরে ধরেছিল ইমিগ্রেশন ব্যুরো। পরে তাদের এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ৭ বিদেশি বৈধ ভিসাতেই ভারতে এসেছিল। তবে বিনা অনুমতিতে তারা মিজোরামে গিয়েছিল। সেখান থেকে তারা মায়ানমারে গিয়েছিল এবং ভারতবিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে দেখা করেছিল। সেখানে তারা সেই সব জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে, ইউরোপ থেকে একাধিক ড্রোন মিজোরামে আমদানি করেছিল এই বিদেশিরা। এনআইএ অভিযোগ করেছে, ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার ছক কষছিল এই বিদেশিরা।