ভারতীয় রেলের নয়া পরিকল্পনা। আকাশপথে যাতায়াতের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিতে এবং মধ্যবিত্ত যাত্রীদের রেলমুখী করতে এবার এক ‘ব্লকবাস্টার’ স্কিম নিয়ে হাজির হয়েছে ভারতীয় রেলওয়ে। রেলের দাবি, এটি হতে চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম ‘লয়্যালটি প্রোগ্রাম’ (Loyalty Program)। এই প্রকল্পের আওতায় যাত্রীরা ট্রেনের টিকিট থেকে শুরু করে চা থেকে দারুণ খাবার – সবই পেতে পারেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
কী এই নতুন পরিকল্পনা?
বিগত কয়েক বছরে সস্তা বিমান পরিষেবা বা বাজেট এয়ারলাইন্সের কারণে রেলের প্রিমিয়াম শ্রেণির অনেক যাত্রী বিমানে যাতায়াত শুরু করেছেন। সেই হারানো বাজার ফিরে পেতে রেল বোর্ড এক অভিনব রিওয়ার্ড পয়েন্ট সিস্টেম চালু করতে চলেছে বলে সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম লাইভ হিন্দুস্তানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ক্রেডিট কার্ড বা অনলাইন শপিংয়ের মতো এবার ট্রেন ভ্রমণেও আপনি ‘পয়েন্ট’ অর্জন করবেন। আপনি যত বেশি কিলোমিটার পথ রেলে সফর করবেন, আপনার আইআরসিটিসি (IRCTC) অ্যাকাউন্টে তত বেশি রিওয়ার্ড পয়েন্ট জমা হবে।
কী কী সুবিধা পাবেন যাত্রীরা?
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেলওয়ের শীর্ষ আধিকারকিরা জানিয়েছেন যে এই রিওয়ার্ড পয়েন্টগুলো ডিজিটাল ওয়ালেটের মতো কাজ করবে। একজন যাত্রী এই পয়েন্টগুলো ব্যবহার করে একগুচ্ছ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
১) বিনামূল্যে টিকিট: পর্যাপ্ত পয়েন্ট জমা হলে পরবর্তী যাত্রার জন্য বেস ফেয়ার বা মূল ভাড়ায় বড় ছাড় অথবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে টিকিট পাওয়া যাবে।
২) বিনামূল্যে খাবার ও পানীয়: স্টেশনে বা ট্রেনের ভেতরে ই-ক্যাটারিংয়ের মাধ্যমে পছন্দমতো চা, সকালের খাবার বা দুপুরের খাবার অর্ডার করলে তার মূল্য এই পয়েন্ট দিয়ে মেটানো যাবে।
৩) লাউঞ্জ সুবিধা: স্টেশনের বিলাসবহুল ওয়েটিং লাউঞ্জে বিনামূল্যে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ মিলবে।

৪) সিট আপগ্রেডেশন: থার্ড এসি থেকে সেকেন্ড এসি কিংবা সেকেন্ড এসি থেকে ফার্স্ট এসিতে বিনামূল্যে নিজের আসন আপগ্রেড করার সুযোগ থাকছে।
কবে থেকে শুরু হচ্ছে এই পরিষেবা?
ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পটি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এপ্রিল মাস থেকে দেশের প্রিমিয়াম ট্রেনে (যেমন – বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবং তেজস এক্সপ্রেস) শুরু হতে পারে। সেখানে সাফল্য মিললে ধাপে-ধাপে সমস্ত মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য এটি চালু করা হবে। এই প্রকল্পে ভারতের ৭,০০০-এর বেশি স্টেশন এবং প্রতিদিন প্রায় তিন কোটি যাত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার লক্ষ্যে রেল
প্রতারণা রুখতে এই রিওয়ার্ড পয়েন্ট সরাসরি যাত্রীর আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করা আইআরসিটিসি অ্যাকাউন্টে জমা হবে। ফলে একজনের পয়েন্ট অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। অফ-সিজন বা যখন ট্রেনে ভিড় কম থাকে, তখন রেল কর্তৃপক্ষ পয়েন্টের ভ্যালু বাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে যাতে যাত্রীরা সেই সময়ে ভ্রমণে উৎসাহিত হন।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলের এই পদক্ষেপ বিমান সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে যাঁরা ঘনঘন যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্য এটি সঞ্চয়ের এক দুর্দান্ত মাধ্যম হয়ে উঠবে। ভারতীয় রেলের এই ডিজিটাল রূপান্তর সাধারণ মানুষের ট্রেন ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন রেলের আধিকারিকরা।