হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ শুরু করেছে আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলে নতুন করে বেড়েছে উত্তেজনা। এরই মধ্যে ভারতের জন্য সুখবর। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে হরমুজের মধ্য দিয়ে যাওয়া ভারতীয় জাহাজগুলির জন্য কোনও টোল নেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও ভারতীয় জাহাজগুলিকে নিরাপদে যাতায়াত করতে দেওয়া হবে। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আপনারা ভারত সরকারকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন যে আমরা এখনও পর্যন্ত কোনও ভারতী জাহাজ থেকে অর্থ নিয়েছি কিনা। এই কঠিন সময়ে আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভারত ও ইরানের স্বার্থ এক হতে পারে।’
নিউজ১৮-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ভারতীয় জাহাজগুলিকে নিরাপদে হরমুজ ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক খুবই শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য। কঠিন সময়ে ভারত নিজেকে একটি জ্ঞানী এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসাবে প্রমাণ করেছে এবং উভয় দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এখনও অনেক গভীর। তিনি জানান, শিগগিরই ইরান একটি ব্যবস্থা ঘোষণা করবে, যাতে হরমুজ দিয়ে জাহাজ ছাড়ার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হবে।
এর আগে বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে যে হরমুজে আটকে পড়া ১৫টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। অতিরিক্ত সচিব মুকেশ মঙ্গল বলেন, ‘আমরা বিদেশ মন্ত্রকের সহযোগিতায় আমাদের জাহাজগুলি ফিরিয়ে আনার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি অনুকূল হলেই জাহাজগুলোকে হরমুজের মধ্য দিয়ে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হবে।’

এরই মধ্যে আবার ইরান থেকে প্রায় সাত বছর পর ফের ভারতে পৌঁছেছে অপরিশোধিত তেল। জাহাজ ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলে দুটি বড় সুপারট্যাঙ্কার পৌঁছায় সম্প্রতি। এই ট্যাঙ্কারগুলিতে ইরানি অপরিশোধিত তেল আছে। জানা গিয়েছে, গত ১২ এপ্রিল গভীর রাতে ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাঙ্কার কোম্পানি পরিচালিত ‘ফেলিসিটি’ নামের একটি বড় ট্যাঙ্কার গুজরাটের সিকা উপকূলের কাছে পৌঁছায়। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে খার্গ দ্বীপে এই ট্যাঙ্কারটিতে তেল বোঝাই করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ওড়িশার পারাদ্বীপ উপকূলের কাছে পৌঁছেছে দ্বিতীয় ট্যাঙ্কার ‘জয়া’। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে খার্গ দ্বীপ থেকে এটিকে লোড করা হয়েছিল।