হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও প্রবল হয়েছে। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথটি এবার অবরুদ্ধ করেছে আমেরিকা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরান থেকে ছেড়ে আসা জাহাজ চলাচল বন্ধে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। এই আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে অন্তত ১৫টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। ইরানের বন্দর এবং উপকূলীয় অঞ্চলের চারপাশে এই জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ফোর্স জানিয়েছে, আমেরিকা খুবই কঠোরভাবে হরমুজে অবরোধ বাস্তবায়ন করছে। এই অভিযানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি (এলএইচএ-৭) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বিমানবাহী রণতরীতে এফ-৩৫বি লাইটনিং ২ স্টিলথ ফাইটার জেট, এমভি-২২ অসপ্রে বিমান এবং হেলিকপ্টার মোতায়েন রয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, ইউএসএস ত্রিপোলিকে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে করে প্রয়োজন পড়লে তা থেকে ২০টিরও বেশি এফ-৩৫বি জেট পরিচালনা করা যায়।
উল্লেখ্য, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য শর্ত হিসেবে ইরান বলেছিল, হরমজ প্রণালী দিয়ে যাতায়ত করা জাহাজগুলি থেকে তারা টোল সংগ্রহ করবে। প্রাথমিক ভাবে ইরানের এই শর্তে আমেরিকা রাজি হয়েছিল বলেই মনে হয় ট্রাম্পের কথাবার্তায়। পরে যদিও তা নিয়ে বেঁকে বসেন তিনি। এদিকে ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা আলোচনাও ব্যর্থ হয়। এরপরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, হরমুজে ইরানি বন্দরে কোনও জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্থান ঠেকাতে অবিলম্বে অবরোধ চালাবে মার্কিন নৌবাহিনী। এদিকে ইরানকে ‘টোল’ দেওয়া জাহাজগুলিকেও চিহ্নিত করে আটকানো হবে বলে ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
এর আগে গত ১১ এপ্রিল আমেরিকার দুই রণতরী হরমুজ প্রণালীতে যায় বলে দাবি করে সেন্টকম। পরে ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই পিটারসন জুনিয়র এবং ইউএসএস মাইকেল মারফি নামক দুই রণতরী সেখান থেকে ঘুরে যায় বলেও দাবি করা হয় রিপোর্টে। দাবি করা হয়, আমেরিকার রণতরীগুলিকে হরমুজ প্রণালী থেকে ঘুরে যাওয়ার জন্য ইরান ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’ দিয়েছিল।

হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ।