৯ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টে আইপ্যাক হানা নিয়ে ইডির দায়ের করা মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। ৯ জানুয়ারি আদালত কক্ষে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। পরে রেগে গিয়ে শুনানি না করে আদালত কক্ষ ত্যাগ করেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। এই আবহে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। তিনি দাবি করেছেন, পুরো ঘটনা তৃণমূলের পরিকল্পিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল তৃণমূলের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাটের স্ক্রিনশট তুলে ধরে এই দাবি করা হয়েছে। যদিও সেই স্ক্রিনশটের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
৯ জানুয়ারি শুনানির আগে আদালত কক্ষে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ঘর ফাঁকা করতে বলেন বিচারপতি। তবে তা হয়নি। এই আবহে ধৈর্য হারিয়ে শুনানি পিছিয়ে দেন বিচারপতি। আগামী ১৪ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এই আবহে শুভেন্দু দাবি করেন, এটা তৃণমূল পরিকল্পনা করে করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাট ভাইরাল হয়েছে। তাতে লেখা – ‘কোর্ট নম্বর ৫-এ সবাই চলে আসবেন।’ এই পরিপ্রেক্ষিতে শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা আদালত কক্ষে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
এদিকে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং আইপ্যাকের অফিসে ইডির অভিযানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতা পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ ইডির। এই আবহে তৃণমূলের পালটা অভিযোগ, ইডি কর্তারা রাজনৈতিক কারণে হানা দেয় আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার প্রধানের বাড়িতে। এই আবহে ইডির বিরুদ্ধেই নথি চুরির অভিযোগ করে মামলা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সবের মাঝে ইডির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে রাজ্য সরকার।

এদিকে ৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের জাস্টিস শুভ্রা ঘোষ শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার পরে প্রধান বিচারপতির এজলাসে দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে ইমেইল করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এমনকী পৃথক বেঞ্চ তৈরি করারও আবেদন জানানো হয়। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা হবে বলে শোনা যাচ্ছে। এই আবহে ইডির শুনানি যাতে একতরফা ভাবে না শোনা হয়, তার জন্য নাকি ক্যাভিয়েট দাখিল করা হয়েছে।