হরমুজ প্রণালীতে থাইল্যান্ডের একটি কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারত। এবার সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল থাই বিদেশ মন্ত্রক। উল্লেখ্য, ‘ময়ূরী নারী’ নামক এই থাই জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতের গুজরাটের দিকে আসছিল। সেই সময় জাহাজটির ওপর হামলা হয়। পরে জাহাজের ক্রুদের উদ্ধার করা হয়। এই আবহে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতি জারি করে এই হামলার তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে ইতিমধ্যেই। বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা বন্ধের জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গুজরাটের কান্দলা বন্দরে আসার কথা ছিল ময়ূরী নারী নামক থাই কার্গো জাহাজটির। সেই জাহাজে ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বিবৃতি জারি করে বলেছে, ‘১১ মার্চ হরমুজ প্রণালীতে থাই জাহাজ ময়ুরী নারীতে হামলার খবরটির বিষয়ে আমরা অবগত। জাহাজটি ভারতের কান্দলা যাওয়ার পথে ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নিশানা করে সামরিক হামলা চালানো হচ্ছে। এর নিন্দা জানাচ্ছে ভারত। সংঘাতের প্রাথমিক স্তরে এই ধরনের হামলায় ভারতীয় নাগরিকসহ অনেক মূল্যবান প্রাণহানি ঘটেছে। এই ধরনের হামলার তীব্রতা আরও বাড়ছে। এই আবহে ভারত পুনর্ব্যক্ত করতে চায় যে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে টার্গেট করা, নিরীহ ক্রুদের জীবন বিপন্ন করা বা যে কোনও উপায়ে নৌচলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া উচিত নয়।’
জানা গিয়েছে, থাই জাহাজটি হামলার শিকার হলে উদ্ধারকাজে নামে ওমানের নৌবাহিনী। থাই নৌবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, ময়ূরী নারী জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৮ মিটার এবং এর বহনক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার টন। জাহাজটির মালিকানা রয়েছে প্রেসিয়াস শিপিং নামক সংস্থার কাছে। এদিকে সেফ-সি বিষ্ণু নামক মার্কিন তেলের ট্যাঙ্কারে ইরানি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এক ভারতীয়। জানা গিয়েছে, ইরানের একটি আত্মঘাতী ড্রোন বোট এই হামলা চালায়। আল জুবের বন্দরের কিছু দূরে ইরাকের জলসীমায় এই হামলাটি হয় বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে সেফ-সি বিষ্ণুর মালিক সংস্থাটি ভারতীয় সরকারকে জানিয়েছে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবরটি। ভারত সরকারের কাছে মার্কিন সংস্থাটি আবেদন জানায় যাতে এই হামলার তীব্র ভাষায় নিন্দা জানানো হয়। এদিকে ইরাকি জলসীমায় ‘জেফিরোস’ নামে আরও একটি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। সব মিলিয়ে ১১ মার্চ রাতে হরমুজ প্রণালী এলাকায় পাঁচটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ২০টি জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর প্রায় অধিকাংশ জাহাজেই ভারতীয় ছিলেন। এর আগে তিন জন ভারতীয় ইরানি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।