পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। ২১ ঘণ্টা ধরে চলা এই কথাবার্তার পরে ইরানের অভিযোগ, আমেরিকা অপ্রয়োজনীয় সব দাবি জানাচ্ছিল। সেই কারণেই এই আলোচনা সফল হয়নি বলেও দাবি ইরানের। এক বিবৃতি জারি করে ইরান বলে, ‘দেশের জনগণের স্বার্থে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমেরিকার অহেতুক দাবি মেনে নেওয়া তাই আমাদের জন্য অসম্ভব। ইরানি প্রতিনিধি দলের ইতিবাচক মনোভাব সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অপ্রয়োজনীয় সব দাবি জানানো হয়। এই কারণেই আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়।’
এদিকে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স বলেন, আলোচনা নিয়ে ভালো খবর ও দুঃসংবাদ রয়েছে। সুখবর হল, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। দুঃসংবাদটি হল কোনও চুক্তি না করেই পাকিস্তান থেকে ফিরে যাচ্ছি আমরা। আমেরিকার তরফ থেকে ইরানকে চূড়ান্ত এবং সেরা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনও দরজা খোলা রেখেছেন। ইরান যদি তাঁর প্রস্তাব মেনে নেয়, তাহলে ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করা যেতে পারে।’
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে এই আলোচনা উভয় পক্ষের জন্যেই খুব সংবেদনশীল ছিল। এই আবহে ইরানের তরফ থেকে ৭১ সদস্যের প্রতিনিধি দল গিয়েছিল পাকিস্তান। এদিকে আমেরিকার তরফ থেকে জানা গিয়েছে, প্রথম দিনের আলোচনায় দুই পক্ষ ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কথা বলে। উভয় দেশই তাদের খসড়া ও নথি উপস্থাপন করে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছিল, আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়। এই আবহে এবার আমেরিকা ফের ইরানে হামলা চালাবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবার ইরানও হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কারে হামলা চালাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে।

রিপোর্টে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানে দীর্ঘ বৈঠক ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয় ইরান এবং আমেরিকার। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের দূরত্ব মেটেনি। এদিকে পাকিস্তানের ঢাল হয়ে দাঁড়ান ভান্স। তিনি বলেন, ‘আলোচনায় যে ঘাটতিগুলো রয়ে গেছে, সেগুলোর জন্য পাকিস্তানিদের দায়ী করা যাবে না। তারা অসাধারণ কাজ করেছে এবং আমাদের ও ইরানের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সত্যিই চেষ্টা করেছে। তা সত্ত্বেও ইরানের জন্য খারাপ খবর হল, আমরা কোনও চুক্তিতে পৌঁছতে পারিনি। তাই আমরা কোনও সমঝোতা ছাড়াই ফিরে যাচ্ছি। আমরা আমাদের ‘লক্ষ্মণরেখার’ বিষয়ে ইরানকে জানিয়েছি। কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া যায়, কোন বিষয়ে দেওয়া যায় না, সবটাই পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের শর্ত মেনে নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করবে না। সহজভাবে বলতে গেলে, আমরা একটি সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখতে চাই যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনও সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টাও করবে না, যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সহায়তা করবে। এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এবং আমরা এই আলোচনার মাধ্যমে সেটাই অর্জন করার চেষ্টা করেছি।’