Kala Hiran Row: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজস্থানের ডিজিপি ইউ.আর. সাহুর দ্বারস্থ হলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক অমিত জানি। পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির কাছ থেকে ফোনে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ইমেলের মাধ্যমে এই বিষয়ে প্রশাসনকে বিস্তারিত জানিয়েছেন এই প্রযোজক। অমিত জানি দাবি করেছেন, তাঁর আগামী ছবি ‘কালা হিরন: দ্য ব্যাটেল ফর লেগাসি’-র কারণেই তাঁকে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ছবিটি বলিউড সুপারস্টার সলমন খানের বহু বিতর্কিত ‘কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হচ্ছে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ফের একবার ইন্ড্রাস্ট্রিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
‘কালা হিরন: দ্য ব্যাটেল ফর লেগাসি’ ছবির টিজার মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই এটি বড়সড় বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। শুধু তাই নয়, নিজের ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই ছবির মুক্তির ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে ইতিমধ্যেই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন খোদ সলমন খান। আগামীকাল, ১৯ জুন আদালত এই মামলার শুনানি করতে চলেছে। জানা গিয়েছে, ‘কালা হিরন: দ্য ব্যাটেল ফর লেগাসি’ ছবিটিতে দশকের পর দশক ধরে চলা সলমন খানের কৃষ্ণসার মামলার ছায়া যেমন রয়েছে, তেমনই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত রাজস্থানের বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের আবেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, ছবিটিতে হাই-ভোল্টেজ কোর্টরুম ড্রামা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনও থাকবে বলে সূত্রের খবর। ছবিটিকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই খুনের হুমকির ঘটনা চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অমিত জানি দাবি করেছেন, তাঁর আগামী ছবি ‘কালা হিরন: দ্য ব্যাটেল ফর লেগাসি’ নিয়ে তিনি শাহজাদ ভাট্টির কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন। ভাট্টি প্রযোজককে এই প্রজেক্টের কাজ নিয়ে না এগোনোর জন্য সতর্ক করেছে, যা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই হুমকি মূলত একটি বৃহত্তর ব্লুপ্রিন্ট বা কৌশলের অংশ; যেখানে পাকিস্তান-ভিত্তিক কিছু গোষ্ঠী সেলিব্রিটি, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং বড় বড় বিতর্ককে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়তে এবং সামাজিক মেরুকরণ তৈরি করতে ব্যবহার করে। শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, ভাট্টি বর্তমানে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর একটি অন্যতম ‘প্রক্সি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভারতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে আইএসআই এখ স্বল্প-ব্যয়ী ও ‘অস্বীকারযোগ্য’ এজেন্টদের ওপর নির্ভর করছে, যাদের সঙ্গে সরাসরি কোনও যোগসূত্র প্রমাণ করা যায় না। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, তারকা এবং সুপরিচিত ব্যক্তিত্বদের হুমকি দেওয়ার পেছনে একাধিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার নিশ্চিত করা যায়, ঠিক তেমনই বিনোদন দুনিয়ার মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং কোনও বড় মাপের সন্ত্রাসবাদী হামলা ছাড়াই জনমানসে সাম্প্রদায়িক বা জাতীয়তাবাদী সুর উস্কে দেওয়া সম্ভব হয়।
একজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ‘প্রতিবারই যে সশরীরে ক্ষতি করা মূল লক্ষ্য থাকে, তা কিন্তু নয়। মূল উদ্দেশ্য হলো আলোচনার কেন্দ্রে আসা, আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং সেটিকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা।’ এই পরিস্থিতিতে ‘কালা হিরন’ বিতর্ক তাদের জন্য একটি মোক্ষম সুযোগ বা ‘ফ্ল্যাশপয়েন্ট’ হিসেবে কাজ করছে। ছবিটি মূলত কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল সেই কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলাটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসছে, যার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে সলমন খানের নাম।আন্ডারওয়ার্ল্ড-এর অভ্যন্তরীণ সমীকরণের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেও এই হুমকি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ভাট্টি একটা সময় বিষ্ণোই গ্যাং-এর সঙ্গে যুক্ত বা তাদের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলত। কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিষ্ণোই গ্যাং বারবার সলমন খানকে নিশানা করেছে, কারণ বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে এই প্রাণীটির ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, পহেলগাঁও হামলার পর থেকে এই দুই পক্ষের সম্পর্কে ফাটল ধরে। কারণ সেই হামলার পর কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ঘনিষ্ঠ মহল প্রকাশ্যে ভারতকে সমর্থক করে এবং পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করেছিল।

তদন্তকারীদের ধারণা, এই দূরত্বের ফলেই তাদের মধ্যে এক নতুন শত্রুতার জন্ম হয়েছে। এক গোয়েন্দা সূত্র জানান, ‘বিষ্ণোই গ্যাং-এর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের পর, ভাট্টি নিজেকে ক্রমশ বিষ্ণোই বলয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং তাঁদের এজেন্ডাগুলোর বিপরীত মেরুতে নিয়ে দাঁড় করায়।’ দীর্ঘদিনের এই কৃষ্ণসার হরিণ বিতর্কে সলমন খান যেহেতু একটি প্রতীকী চরিত্র, তাই তদন্তকারী সংস্থাগুলোর বিশ্বাস-আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং বলিউড দুই জায়গাতেই বিষ্ণোইদের প্রভাবকে একযোগে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবং বর্তমান উত্তেজনাকে কাজে লাগাতে ভাট্টির নেটওয়ার্ক ‘কালা হিরন’ প্রজেক্টটিকে একটি সহজ টার্গেট হিসেবে বেছে নিয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই একাধিক সন্ত্রাসী এবং অপরাধমূলক তদন্তের সঙ্গে ভাট্টির নাম যুক্ত করেছে। এর আগে সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ১৮’ একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, দিল্লি ও মুম্বইয়ে একটি নস্যাৎ হওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলার ব্লুপ্রিন্ট তদন্ত করতে গিয়ে গোয়েন্দারা ভাট্টিকে অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন; যে মূলত মাঠপর্যায়ের এজেন্ট বা অপারেটিভদের বাছাই করা এবং পাকিস্তান-পৃষ্ঠপোষিত মডিউলগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের দায়িত্বে যুক্ত ছিল। সম্প্রতি অন্য একটি অভিযানে দিল্লি পুলিশ পাকিস্তান-সমর্থিত একটি চক্রের সন্ধান পায়, যারা অস্ত্র পাচার, মাদক চোরাচালান এবং নতুন সদস্য নিয়োগের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার বেশ কিছু সূত্র সরাসরি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হ্যান্ডলারদের দিকে ইঙ্গিত করে, যার মধ্যে ভাট্টির নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছে।