Jaipur hospital fire death toll। হাসপাতালের ICU-তে বিধ্বংসী আগুন! ভোররাতে মৃত্যু ৬ রোগীর

Spread the love

সোমবার ভোরে জয়পুরের সওয়াই মান সিং হাসপাতালে এক হৃদয়বিদারক ঘটল। হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের আইসিইউ ওয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আগুনের শিখা এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় ওয়ার্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর হাসপাতাল কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন। মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। শর্ট সার্কিটের কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ট্রমা সেন্টারের ইনচার্জ অনুরাগ ধাকাড় জানিয়েছেন যে, আগুনের সূত্রপাত হয়েছে শর্ট সার্কিটের কারণে। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত আইসিইউতে ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুরো ওয়ার্ড ভরে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। ট্রমা সেন্টারের ইনচার্জ বলেন, ‘আমাদের ট্রমা সেন্টারের দু’তলায় দুটি আইসিইউ রয়েছে। একটি ট্রমা আইসিইউ এবং অন্যটি সেমি-আইসিইউ সেই সময় সেখানে মোট ২৪ জন রোগী ভরতি ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ১১ জন ট্রমা আইসিইউতে ছিলেন।’

বেশিরভাগ রোগী কোমায় ছিলেন। তার ফলে তাদের বাঁচানো আরও কঠিন হয়ে পরে। ট্রমা কেয়ারের ইনচার্জ বলেছেন, ‘আমাদের টিম, নার্সিং স্টাফ এবং ওয়ার্ড বয়রা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয়। রোগীদের ট্রলিতে করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ছয়জন রোগীর অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে, সমস্ত চেষ্টা করার পরেও তাঁদের বাঁচানো যায়নি।’ মৃতদের মধ্যে দু’জন মহিলা এবং চারজন পুরুষ রয়েছেন। পাঁচজন রোগী এখনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তিনি আরও জানান যে, আরও পাঁচজন রোগীর অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক। হাসপাতাল প্রশাসন এবং ডাক্তাররা এই রোগীদের বাঁচানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করছেন। আগুনের ঘটনার পর ট্রমা সেন্টারে থাকা অন্যান্য রোগীদের দ্রুত অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত করছে। জয়পুরের পুলিশ কমিশনার বিজু জর্জ জোসেফ জানিয়েছেন, ‘আমাদের ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবের টিম আগুনের কারণগুলির গভীর তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে এটি শর্ট সার্কিট বলেই মনে করা হচ্ছে,।তবে চূড়ান্ত কারণ এফএসএলের তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি রোগীদের অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করে চিকিৎসা করা হচ্ছে। মৃতদেহগুলিকে মর্গে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ময়নাতদন্ত করা হবে।’

এই দুঃখজনক ঘটনাটি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানের জন্য প্রশাসন দ্রুত একটি কমিটি গঠন করেছে। স্থানীয় মানুষজন এবং রোগীদের আত্মীয়-পরিজন এই দুর্ঘটনায় স্তম্ভিত এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি চাইছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *