দশ বছর আগে যেটা বলতেন, এখন সেটাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার চন্দ্রকোণার জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২৯৪টি আসনেই আমি প্রার্থী।’ তারইমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভোটার তালিকায় ভিনরাজ্যের লোকেদের নাম ঢোকাতে ফর্ম-৬ জমা দিয়েছে বিজেপি। হরিয়ানা, রাজস্থান, বিহার, উত্তরপ্রদেশের মতো জায়গা থেকে ভোটার আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো।
একই নোংরা খেলা বিজেপি সাফল্যের সঙ্গে খেলেছে…..’
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘আমি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছি এবং বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরুদ্ধে যে গুরুতর ষড়যন্ত্র রচিত হচ্ছে, সেই বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। বিজেপি এজেন্টরা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে হাজার-হাজার জালিয়াতিপূর্ণ ৬ নম্বর ফর্ম জমা দিয়ে বাংলার ভোটার তালিকায় বহিরাগতদের ঢুকিয়ে দেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে। এটি ভোটার হাইজ্যাকিংয়ের একটি চেষ্টা, যে একই নোংরা খেলা বিজেপি মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতে সাফল্যের সঙ্গে খেলেছে।’
‘SIR-র জন্য ২০০ জনের বেশি মৃত্যু হয়েছে’
তিনি বলেন, ‘যখন ৬০ লাখের বেশি প্রকৃত ভোটারের নাম বিচারধীন অবস্থায় রয়েছে (ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ লাখ নাম নিষ্পত্তি) এবং ত্রুটিপূর্ণ এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে ইতিমধ্যেই ২০০-র বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, তখন ভারতের নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সন্দেহজনকভাবে এই একগুচ্ছ জালিয়াতিপূর্ণ আবেদনগুলি বন্ধ দরজার পিছনে গ্রহণ করার জন্য তাড়াহুড়ো করছে। এটি কেবল বেআইনি এবং মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থীই নয়, বরং বাংলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর একটি সরাসরি আক্রমণ।’

‘কোনও যেন জাল ভোটার যুক্ত না করা হয়’
সেইসঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেছেন, ‘আমি দাবি জানিয়েছি যে ভারতের নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বন্ধ করুক, কঠোরভাবে মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশাবলী মেনে চলুক এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যেন কোনও জাল ভোটার যুক্ত না করা হয় তা নিশ্চিত করুক। বাংলা তার গণতন্ত্রকে দিনের আলোয় চুরি হতে দেবে না। বাংলার মানুষ নজর রাখছে।’