বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগণনার পরদিন বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, সোমবার ভবানীপুর বিধানসভার গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ‘আমার পেটে লাথি মেরেছে, আমার পিঠে লাথি মেরেছে।’ আর সেইসময় সিসিটিভি বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। যিনি সিআরপিএফকে ‘গুন্ডাবাহিনী’ বলেও আক্রমণ করেছেন। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতি কোনও সম্মান অবশিষ্ট নেই বলে দাবি করেন মমতা। সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘ধাক্কা দিয়ে মেরে-মেরে বের করে দিয়েছে।’
তৃণমূলের সুপ্রিমো কী কী বললেন?
১) তৃণমূল সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, তৃণমূল হারেনি। ১০০টির বেশি আসনে লুট করা হয়েছে। আসল ভিলেন হল নির্বাচন কমিশন।
২) মমতা অভিযোগ করেন, ভোট-পরবর্তী হিংসার বিষয়ে ফ্যাক্ট-ফাইটিং কমিটি (তথ্য অনুসন্ধানকারী কমিটি) গঠন করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে ভোট-পরবর্তী হিংসার পরে বিজেপির তরফে ফ্যাক্ট-ফাইডিং টিম পাঠানো হয়েছিল।
৩) তৃণমূল সুপ্রিমো দাবি করেছেন, পক্ষপাতপুষ্ট হয়ে কাজ করেছে কমিশন। বিজেপি যদি ‘এমনি’ জিতত, তাহলে তাঁর বা তৃণমূল কোনও সমস্যা থাকত না। কারণ নির্বাচনে হার-জিতের ব্যাপার থাকে। কিন্তু এবার সেটা হয়নি। তৃণমূল হারেনি। বিজেপি লুট করেছে বলে অভিযোগ করেন মমতা।
৪) বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেন, কীসের জন্য? আমরা তো হারিনি যে যাব। হারলে আমি যদি শপথ নিতে যেতাম, তাহলে আমি রেজিগশনটা করতাম। এখন তো কোয়েশ্চেন ডাস নট অ্যারাইজ। জোর করে দখল করে যদি কেউ মনে করে যে আমি গিয়ে রেজিগশনটা দিতে হবে – নো, নট দ্যাট। আমি এখনও বলতে চাই, আমরা নির্বাচনে হারিনি। জোর করে আমাদের হারানোর জন্য ওদের চেষ্টা এটা।’
৫) তিনি দাবি করেছেন, এখন আর কোনও ‘চেয়ারে’ (মুখ্যমন্ত্রিত্বের কুর্সি) নেই তিনি। এখন ‘মুক্তপাখি’ (ফ্রি বার্ড) তিনি। তাই রাস্তায় থাকবেন বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

৬) মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ২০১১ সালে ক্ষমতা দখলের পরে সিপিআইএমের কোনও পার্টি অফিসে হাত দেওয়া হয়নি। করা হয়নি ভাঙচুর।