পনেরো বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলা জয় করল বিজেপি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ২০৬টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে গেরুয়া শিবির। বিপরীতে গতবারের ২১৫টি আসন থেকে নেমে এসে তৃণমূলের ঝুলিতে জুটেছে মাত্র ৮১টি আসন। গত বিধানসভা নির্বাচনেই তৃণমূলের ঝুলিতে ২১৫টি আসন ছিল। বিজেপিকে ৭৭টি আসন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। কিন্তু এবার যেন উলটপূরাণ। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের আবহে ফল ঘোষণার রাত থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তি ও ভাঙচুরের খবর সামনে আসতে শুরু করেছে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবার বার্তা দিয়েছে, সাবধান করে দিয়েছেন কোনও বদলা নয়, বদল চাই। নির্বাচন কমিশনও জানায়, এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করা যাবে না।
অরূপ বিশ্বাসের কার্যালয় দখল!
টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের পরাজয়ের পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। অভিযোগ, ফলাফল স্পষ্ট হতেই যাদবপুরের বিজয়গড়ে তাঁর পার্টি অফিস ‘টালিগঞ্জ উন্নয়ন পরিষদ’ দখল করে নেয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেখানে তৃণমূলের পতাকা সরিয়ে ওড়ানো হয় গেরুয়া পতাকা এবং চলে আবির খেলা। বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা সেখানে ভাঙচুর চালায় বলেও অভিযোগ।
ভবানীপুরে উত্তেজনা
সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরেও ছড়ায় উত্তেজনা। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের নর্দান পার্কে তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ অসীম কুমার বোসের অফিসে হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, একদল যুবক তালা ভেঙে অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং অফিসের নথি ও আসবাবপত্র রাস্তায় বের করে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উদনারায়ণপুরে জয়ী প্রার্থীকে মারধর
উদয়নারায়নপুরে তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী সমীর পাঁজাকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। জয়ী ঘোষণার পর শংসাপত্র নিতে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছতেই এই হেনস্থার শিকার হন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই একদল দুষ্কৃতী এলাকায় অশান্তি পাকাচ্ছিল। সেই দলই গণনাকেন্দ্রের বাইরে আচমকা তাঁর ওপর চড়াও হয়। হামলার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকলেও তাঁকে রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে আসেনি বলে দাবি প্রার্থীর।
তৃণমূলের সাংসদকে ছোঁড়া হল জুতো
সোমবার গণনাকেন্দ্রে তৃণমূল সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। অভিযোগ, তাঁকে ঘিরে ধরে প্রথমে বিভিন্ন রকম স্লোগান দেওয়া হয়, এরপর শুরু হয় অশালীন মন্তব্য। অভিযোগ, কয়েকজন বিজেপি কর্মী জুতো ছুঁড়ে মারে সাংসককে লক্ষ্য করে।
জেলায় জেলায় অশান্তি
শুধু একটি নয়, বেশ কয়েকটি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক অফিস দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। মেদিনীপুর আসনে বিজেপির শঙ্কর গুছাইত জয়ের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ফল প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডের কাছে তৃণমূলের একটি কার্যালয় দখল করে নেয় বিজেপির কর্মীরা। হুগলির ডানকুনিতেও একই ছবি। সেখানে তৃণমূলের একটি স্থানীয় অফিস ভেঙে দখল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। ডানকুনি পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কাউন্সিলর চিন্ময় নন্দীর পার্টি অফিসে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় বলে জানা গেছে। এমনকি অফিসে বিজেপির পতাকাও লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ির ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতেও একই ছবি। তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় বিজেপি। এমনই অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। বহরমপুরেও ভোট পরবর্তী হিংসা। তৃণমূলের পঞ্চায়েত উপ প্রধানের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ। বহরমপুরে তৃণমূলের একাধিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরই রাতের অন্ধকারে তাণ্ডব চালায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।