সাফল্যের কোনও ধরাবাঁধা নিয়ম নেই, আছে কেবল অদম্য জেদ আর পরিশ্রমের গল্প। সেই গল্পেরই এক জীবন্ত উদাহরণ হলেন প্রিয়াঙ্কা আলা। সম্প্রতি তিনি হায়দরাবাদ জেলার নতুন জেলা কালেক্টর হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তবে প্রিয়াঙ্কা কেবল একজন দক্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকই নন, তাঁর পরিচয় আরও বেশি ছিলেন। তিনি পেশায় একজন ডাক্তার ছিলেন। সাদা কোট ছেড়ে তিনি কেন আইএএস হওয়ার পথ বেছে নিলেন এবং কীভাবে তাঁর এই উত্তরণ ঘটল, তা বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।
চিকিৎসা বিজ্ঞান থেকে সিভিল সার্ভিস: প্রিয়াঙ্কার সফর
প্রিয়াঙ্কা আলা আদতে অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা। ছোটোবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। সমাজসেবার নেশা তাঁর আগে থেকেই ছিল, আর সেই কারণেই তিনি ডাক্তারিকে বেছে নিয়েছিলেন। সাফল্যের সঙ্গে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করার পর তিনি চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে রোগী দেখার সময় তিনি অনুধাবন করেন যে, শুধুমাত্র চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের শারীরিক অসুস্থতা দূর করা সম্ভব। কিন্তু সমাজের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে মিশে থাকা পরিকাঠামোমূলক সমস্যা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হলে প্রশাসনের বড় কোনো জায়গায় থাকা জরুরি।
এই ভাবান থেকেই প্রিয়াঙ্কা সিদ্ধান্ত নেন তিনি দেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা— ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসে বসবেন। ডাক্তারির মতো ব্যস্ত পেশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শুরু হয় তাঁর নিরলস প্রস্তুতি।
প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও কেরিয়ারের মোড়
২০১৬ ব্যাচের তেলাঙ্গানা ক্যাডারের এই আইএএস অফিসার হায়দরাবাদের দায়িত্ব পাওয়ার আগে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। হায়দরাবাদের কালেক্টর হওয়ার আগে তিনি ভদ্রাদ্রি কোঠাগুডেম জেলার জেলা কালেক্টর হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। সেখানে তিনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং স্থানীয় প্রশাসনের উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন। এছাড়া গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপাল কর্পোরেশনে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কাজ করার দরুণ শহরের জটিল সমস্যাগুলো সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান রয়েছে।

হায়দরাবাদের জন্য নতুন লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ
হায়দরাবাদের মতো একটি ঐতিহাসিক শহরের রাশ হাতে নেওয়া প্রিয়াঙ্কা আলার কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর প্রধান অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে শহরের পরিকাঠামোর উন্নয়ন, অবৈধ জবরদখল উচ্ছেদ এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। সরকারি প্রকল্পের সুফল যাতে সমাজের শেষ স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে বর্ষাকালে হায়দরাবাদের জলমগ্ন হওয়ার সমস্যা মোকাবিলায় তিনি আগে থেকেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন।
তরুণ প্রজন্মের জন্য এক আদর্শ
প্রিয়াঙ্কা আলার এই জীবনযুদ্ধ প্রমাণ করে যে লক্ষ্য যদি স্থির থাকে, তবে প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব। একজন প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার হওয়ার পরেও সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করা এবং আইএএসের মতো কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সাধারণ কথা নয়। তাঁর এই যাত্রা লক্ষ লক্ষ ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীর কাছে এক জ্বলন্ত উদাহরণ।