মঙ্গলবার ছিল ‘পিঞ্জর’ সিনেমার ট্রেলার লঞ্চ। আর এই ছবিতে অভিনয় করেছেন সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়, জয় সেনগুপ্ত, মল্লিকা ব্যানার্জি রায়, ঈশান মজুমদার এবং মমতা শঙ্কর। আর এদিন ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠনে এসে মেয়েদের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বললেন অভিনেত্রী-নৃত্যশিল্পী মমতা শংকর। আর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা শঙ্কর বলেন, ‘প্রচুর মেয়ে আছে যারা বন্দি। কিন্তু সবাই নয়। কিন্তু কিছু মেয়েরা যেভাবে ফ্রি হয়ে ঘুরছে, এবং যা যা আমরা দেখতে পারছি…’
এরপর নিজের কথাকে সংশোধন করে মমতা শংকর বলেন, ‘কিছু মেয়ে, সব মেয়ে বলব না। বেশিরভাগ মেয়েই ভালো। কিছু মেয়ের যেভাবে বেশি স্বাধীনতা দেখছি, সেটাও ঠিক না। আসলে আমরা ভুল দিকে স্বাধীনতা নিয়ে যাচ্ছি। স্বাধীনতা বলতে যেটা বোঝায়, সেটা কিন্তু আলাদা। যা ইচ্ছে তাই করব, সেটা কিন্তু কখনোই স্বাধীনতা নয়। তাই নারী স্বাধীনতা একেবারে নেই বললে, সেটা ভুল বলা হবে। কিছু মানুষের হাতে রয়েছে অগাধ স্বাধীনতা। আমি বলব আমাদের মেয়েদের, ভলো মেয়েদের এরকম হওয়া উচিত, যারা কষ্টে আছে, চারদিক থেকে চাপের মধ্যে আছে, তাদের ভালো দিকে নিয়ে আসুন। তাই বলে, স্বাধীনতার ভুল ব্যাখ্যা যেন না হয়।’
তবে মমতা শংকরের বলা এই কথাগুলো ভাইরাল হতেই ফের আক্রমণের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। এক নেটিজেন লেখেন, ‘একটু চুুপ করুন। অনেক বয়স তো হয়েছে। ঠাকুরের নাম করুন।’ আরেকজন লেখেন, ‘একদম ঠিক। যেমন আপনাকে কথা বলার স্বাধীনতা দেওয়া। এটা খুবই ভুল হয়েছে।’ আরেকজন লিখলেন, ‘আপনাকে কখনো আমি ছেলেদের নিয়ে একটা কথাও বলতে শুনি না, আপনি যতক্ষণ না মুখ খুলছেন ততক্ষণ অন্য রকম। কথা বললেই আর নেওয়া যায় না’।
অন্য আরেকটি কমেন্টে এক নেটিজেন প্রশ্ন তোলেন, ‘কোনটা বেশি স্বাধীনতা, কোনটা কম স্বাধীনতা সেটা কে ঠিক করবে?’ মস্করা করে আবার একটি কমেন্টে লেখা হয়, ‘আসলে এটা নামের দোষ। ওঁকে খুব একটা দোষ দেওয়া যায় না।’

এর আগেও নানান আলটপকা মন্তব্য নিয়ে আলোচনায় এসেছেন মমতা শঙ্কর। কখনো শাড়ির আঁচল নিয়ে তাঁর বলা কথা, কখনো কলকাতার মেট্রো স্টেশনের সেই চুমু বিতর্ক। তবে তাঁর মন্তব্যকে ‘নৈতিক পুলিশিগিরি’ বলে উল্লেখ করেন নেটিজেনরা। তরুণ অভিনেতা ঋদ্ধি সেন, অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়-সহ বহু তারকাও মুখ খুলেছিলেন মমতা শঙ্করকে নিয়ে।