Noida Workers Protest: সপ্তাহের প্রথম দিনেই কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল উত্তরপ্রদেশের নয়ডা। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক সংগঠনের ডাকা তিনদিনের আন্দোলনের শেষ দিনে রীতিমতো পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। পুলিশের লাঠির আঘাতে এক মহিলা কর্মী আহত হলে, বিক্ষোভকারীরা একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এই বিক্ষোভের জেরে দিল্লি-নয়ডা সীমানায় ভয়াবহ যানজট তৈরি হয়, যার ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা।
এদিন সকাল থেকেই নয়ডার ফেজ-২ এলাকা, বিশেষ করে সেক্টর ১ এবং ৮৪-তে উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। শ্রমিকদের একটি বিশাল অংশ রাস্তায় নেমে স্লোগান দিতে শুরু করেন। উত্তেজনার পারদ চড়লে সেক্টর ৬০ এবং ৬২-এ আন্দোলনকারীরা চরম হিংস্র হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গত চার-পাঁচ দিন ধরে শ্রম আইন অনুযায়ী মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে এই আন্দোলন চলছে। ১০ এপ্রিল শুক্রবারও নয়ডার ফেজ-২-এর হাজার হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ দেখান ও পুলিশের লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়েছিলেন বলে অভিযোগ। সোমবার আন্দোলনকারীরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সরকারি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এক আন্দোলনকারী শ্রমিক সরকারের বিরুদ্ধে মজুরি না বাড়ানোর অভিযোগ তোলেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘সরকার আমাদের বেতন ২০,০০০ টাকা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই প্রতিশ্রুতি কেন রাখা হচ্ছে না? পুলিশ কেন মেয়েদের লাঠি দিয়ে মারছে? লাঠিচার্জের দরকার কী?’ এই বিক্ষোভের জেরে দিল্লি-নয়ডা সীমান্তে তীব্র যানজটে বহু যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়েন। গৌতম বুদ্ধ নগর কমিশনারেটের অধীনে সব শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নজর রাখা হচ্ছে। শান্তি বজায় রাখতে শ্রমিকদের বোঝানো হচ্ছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ন্যূনতম বলপ্রয়োগ হচ্ছে।’ কর্তৃপক্ষ গুজবে কান না দিতে অনুরোধ জানিয়ে আশ্বাস দিয়েছে যে, প্রতিবাদ-আক্রান্ত এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

সতর্ক দিল্লি পুলিশ
নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে দিল্লি পুলিশকেও উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হিংস্র পরিস্থিতিতে রাজধানীর প্রধান প্রবেশপথগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, নয়ডাকে দিল্লির সঙ্গে সংযোগকারী সব সড়কপথে এবং উত্তরপ্রদেশ সীমান্তের মূল পয়েন্টগুলিতে দল মোতায়েন করা হয়েছে যাতে উত্তেজনা রাজধানীতে না ছড়ায়। এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ সম্পূর্ণ সতর্ক ও সজাগ। সব কৌশলগত স্থানে পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কাউকে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে দেওয়া হবে না।’