বিপর্যয়ের মেঘ কাটিয়ে রোদ উঠল উত্তরবঙ্গে। রবিবার প্রকৃতির রুদ্র রূপ চাক্ষুষ করার পরে আজ উত্তরবঙ্গ অনেকটাই শান্ত। তবে রবিবার যে তাণ্ডব চলেছে, তার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে এখনও। আপাতত যা খবর, তাতে উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮। প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ভেঙে গিয়েছে সেতু। নেমেছে ধস। তারইমধ্যে রবিবার যে একাধিক রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তার কয়েকটি খুলে দেওয়া হয়েছে।
রিশপে থাকা নীলাঞ্জনা ধর জানিয়েছেন, আজ সকালে একেবারে ঝলমলে রোজ উঠেছে। রবিবার ভোরের পর থেকে বৃষ্টি হয়নি। এমনকী আজ সকালে একেবারে ঝকঝকে অবস্থায় দেখা গিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। সীমানায় থাকা মধুরিমা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আকাশ পরিষ্কার আছে। তাছাড়াও কালিম্পঙের লুংচুংয়ের মতো জায়গায় থাকা পর্যটকরাও জানিয়েছেন যে আজ আকাশ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
আজ কোন কোন ট্রেন বাতিল? ১৫৪৬৭ শিলিগুড়ি-বামনহাট ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ৭৫৭৪১ শিলিগুড়ি-ধুবরি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ৭৫৭২৫ শিলিগুড়ি- নিউ বঙ্গাইগাঁও ডেমু, ৭৫৭১৩ শিলিগুড়ি-বামনহাট ডেমু, ১৫৭৬৭ শিলিগুড়ি- আলিপুরদুয়ার ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ১৫৭৭৭ নিউ জলপাইগুড়ি – আলিপুরদুয়ার ট্যুরিস্ট এক্সপ্রেস, ১৫৭০৩ নিউ জলপাইগুড়ি–বঙ্গাইগাঁও) এক্সপ্রেস, ১৫৪৬৪ শিলিগুড়ি–বালুরঘাট ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস এবং ৫৫৪২২ বালুরঘাট–মালদা টাউন প্যাসেঞ্জার।স্বস্তির বিষয় হল যে আজ কিছুটা বৃষ্টি কমবে উত্তরবঙ্গে। আজ উত্তরবঙ্গের কোনও জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়নি। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদার অনেকাংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। প্রতিটি জেলায় ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝড় উঠবে। তাই হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কোন কোন রাস্তা খোলা আছে? রবিবার রাতেই ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া হিলকার্ট রোড, পাঙ্খাবাড়ি রোড, দার্জিলিং-কালিম্পং রাস্তা খোলা আছে। ফলে সেইসব রাস্তা দিয়ে ওঠানামা করা যাবে। তবে প্রশাসনের তরফে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে আজ রাস্তায় যানজট হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে রাস্তায় বেরনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।