টানা ভারী বৃষ্টিতে ফের বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। গত কয়েকদিন ধরেই পাহাড় ও ডুয়ার্সের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির দাপট চলছিল। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রবল বর্ষণের জেরে একাধিক জায়গায় ধস নামে, উপড়ে পড়ে গাছ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে দার্জিলিং জেলার দুধিয়া এলাকায়, যেখানে বালাসন নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যায় অস্থায়ী সেতু। এর ফলে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতভর মিরিক এবং নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। সেই বৃষ্টির জল নামতে শুরু করতেই ফুলেফেঁপে ওঠে বালাসন নদী। ভোরের দিকে নদীর প্রবল স্রোতের চাপে দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুটি ভেঙে যায়। উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাসে ভয়াবহ বন্যা ও দুর্যোগে দুধিয়ার মূল সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য নদীর বক্ষে একটি অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়েছিল। এবার সেই সেতুও বৃষ্টির তোড়ে ভেসে গেল।
সেতু ভেঙে যাওয়ার ফলে মিরিকগামী পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বর্তমানে শিলিগুড়ি থেকে মিরিক যেতে হলে সুখিয়াপোখরি হয়ে দীর্ঘ ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতের সময় এবং খরচ দুই-ই বেড়ে গিয়েছে। এদিকে, প্রবল বৃষ্টির কারণে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশেও ধসের ঘটনা ঘটেছে। কিছু জায়গায় গাছ পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্ধার ও মেরামতির কাজ শুরু হলেও দুর্যোগের কারণে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের জন্য কয়েকটি জেলায় লাল সতর্কতা এবং অন্যত্র কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নদী ও ঝরনার কাছাকাছি না যাওয়া, অপ্রয়োজনে পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াত এড়িয়ে চলা এবং আবহাওয়ার আপডেটের উপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আরও ধস, জলাবদ্ধতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
