পাকিস্তানের সঙ্গে সন্ত্রাসের যোগ নতুন খবর নয়! সেদেশে তিলে তিলে বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসী শিবিরগুলি এযাবৎকালে বহুবার ভারতকে রক্তাক্ত করেছে। সরব হয়েছে দিল্লি। তবে তারপরও পাকিস্তানের বুকে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়িয়েছে বিশ্বসন্ত্রাসে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা একাধিক সন্ত্রাসবাদী। সদ্য গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলার পরও পাকিস্তানের বুক থেকে ভারত বিরোধিতার সুর চড়াতে ভোলেনি পাকিস্তানের একাধিক কুখ্যাত সন্ত্রাসী শিবিরের নেতারা। এবার খবর সেই সন্ত্রাসী শিবিরের এক সদস্যের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ঘনিষ্ঠের সাক্ষাৎ নিয়ে!
এই ছবি (ছবির সত্যতা যাচাই করেনি ইনিউজ বাংলা) সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে! ছবিতে একদিকে, কালো কোট পরে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের উপদেষ্টা তথা ঘনিষ্ঠ রানা সানাউল্লাহ। অন্যদিকে, সানাউল্লাহ যার দিকে তাকিয়ে, মুখে হাসি নিয়ে, তার হাত ধরে রয়েছেন, সেই ব্যক্তি, কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী হাফিজ সইদের ছেলে তালহা সইদ। পাকিস্তানের সন্ত্রাস শিবির লস্কর-ই-তৈবার মূল হোথা এই হাফিজ সইদ। বহুবার তার সন্ত্রাসী নীল নক্সা রক্তবন্যা বইয়েছে ভারতে। জানা যাচ্ছে, এই ছবিটি পাকিস্তানের ফয়জলাবাদে এক বিয়ে বাড়িতে তোলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের সরকারের সঙ্গে পাকিস্তানের মাটিতে রমরমিয়ে চলা সন্ত্রাসী শিবিরগুলির যে যোগ কতটা মসৃণ, তা এই ছবি প্রকাশ্যে তুলে ধরছে বলে বহু মিডিয়া রিপোর্ট দাবি করছে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিল হাইফিজ সইদ। হাফিজ ও তার পুত্র তালহা দুজনেই ভারত, আমেরিকা, রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। হাফিজকে পাকিস্তান বন্দি অবস্থাতে রাখলেও, বহুবারই তাকে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সদ্য, ভারত ও জম্মু ও কাশ্মীরকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসহ একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে চলেছে পাকিস্তান। এর কয়েকদিন পরেই সানাউল্লাহ ও তালহা সাইদের ভাইরাল ছবিটি সামনে আসে।
লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হাফিজ সাইদ, পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল পিএমএমএল-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাঁর ছেলে তালহা সাইদ পিএমএমএল-এর টিকিটে লাহোরের এনএ-১২২ আসন থেকে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে, তিনি মাত্র ২,০৪১ ভোট পেয়ে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেন। জানিয়ে রাখা যাক, পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ (পিএমএমএল), নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাত-উদ-দাওয়া (জুডি)-এর রাজনৈতিক শাখা, যার সাথে হাফিজ সাইদেরও যোগসূত্র রয়েছে।