এক নয়, দুই নয়, প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সাইবার প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে শিল্পপতি পবন রুইয়ার বিরুদ্ধে। যিনি এককালে জেসপ ও ডানলপের মতো তাবড় সংস্থার প্রাক্তন মালিক ছিলেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সাইবার প্রতারণা ঘিরে পবন রুইয়াকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
গোটা ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। ২০২৪ সালে বিধাননগরের ইকো পার্ক থানায় জনৈক স্বপনকুমার মণ্ডলের দায়ের করা একটি মামলার সবত্র ধরেই এই গ্রেফতার। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ এদিন নিউটাউনের এক হোটেলের সামনে থেকে পবন রুইয়াকে গ্রেফতার করে। তবে এদিনের পুলিশি অভিযানের আগও পবন রুইয়াকে কেন্দ্র করে বহু পুলিশি তল্লাশি ও জেরা চলেছে। এই মামলায় নাম জড়িয়েছে পবনের পুত্র রাঘব ও কন্যা পল্লবীরও।
যে বিস্ফোরক অভিযোগ পবন রুইয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে তা হল সাইবার প্রতারণার। দেশের নানা অংশে বিভিন্ন জায়গায় সাইবার প্রতারণার টাকা পবন রুইয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। এমনই অভিযোগ রয়েছে। এরপর তদন্তে নামে সাইবার ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ। প্রাথমিক ভাবে ৩১৫ কোটি টাকার হদিস পান সাইবার বিশেষজ্ঞরা। এরপর গত নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পবনদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। উঠে আসে বেশ কিছু ভুয়ো সংস্থার হদিশ। এরপর তদন্তে নেমে পবন রুইয়ার বাড়িও তল্লাশি করে পুলিশ। পবনকে হেফাজতে নিয়ে একপ্রস্থ জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ। তবে আইনি পথে হেঁটে আগাম জামিনের বন্দোবস্ত করেন পবন। এবার গ্রেফতারি!
এর আগে, ২০১৬ সালে জেসপ কারখানা থেকে রেলওয়ে সরঞ্জাম চুরির মামলায় পবন রুইয়াকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এককালে সাহাগঞ্জের ডানলপ কারখানা ছিল পবন রুইয়ার মালিকানাধীন। জেসপও ছিল তাঁর মালিকানায়। তবে তাঁর মালিকানায় থাকাকালীন ডানলপ ও জেসপ দুই সংস্থাই বন্ধ হয়ে যায়। সর্বসান্ত হয়ে পড়েন সংস্থাগুলির বহু কর্মী। উল্লেখ্য, ডানলপ কারখানা যখন পবন রুইয়ার মালিকানায় যায়, তখন পশ্চিমবঙ্গে বাম আমল। এরপর সংস্থাগুলি রাজ্যসরকার অধিগ্রহণ করতে চেষ্টা করেছিল বলে জানা যায়।
